বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়

 মানুষ সামাজিক জীব ।মানুষ কখনো একা বাস করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হল, বিড়াল নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি কেন মানুষের কথা তুলে ধরলাম । আজকাল মানুষ মানুষের সাথে মিশতে পারছে না , একজনের সাথে আরেকজনের মত বিনিময় এবং চিন্তা ধারণা  মিলছে না এর ফলে মানুষ আরেকজন মানুষ থেকে খুব সহজে আলাদা হয়ে যাচ্ছ

বিড়াল-কামড়ালে-কি-ভ্যাকসিন-দিতে-হয়

সহজ কথায় বলতে গেলে মানুষ মানুষকে বুঝার চেষ্টা করছে না মানুষ  নিজেদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীকে পোষ মানিয়ে তাদের একাকীত্ব দূর করার চেষ্টা করছে  আর এই পোষা প্রাণীর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই বিড়ালকে তাদের পছন্দের তালিকায়  রাখে।

পেজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়

আরও পড়ুনঃমুখে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহারের নিয়ম।

বিড়াল পালন কতটা ভালো

বিড়াল চতুস্পদি প্রাণী । এদের সহজে পোষ মানানো যায় কারন বিড়াল মানুষের মনের ভাব সহজে বুঝতে পারে .এজন্য মানুষ অনেকেই মনে করেন বিড়াল পোষা একাকীত্ব দূর করার মাধ্যম  । অনেকেই শখের বসে বিড়াল কোষে বিড়াল পোষা যেমন ভালো আবার খারাপ ও ।   আপনারা কি জানেন মহান আল্লাহতায়ালা নিজেই বিড়াল পোষা পছন্দ করতেন ।  তিনি বিড়ালকে পবিত্র পানি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ।  আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বিড়ালকে রহমতের নির্দেশক হিসেবে দেখেন ।  তিনি মনে করতেন যে ঘরে বিড়াল থাকে সে ঘরে আল্লাহর রহমত আসে ,  তিনি আরো বলেছেন ,  বিড়াল যদি কোন খাবারে মুখ দেয় সেই খাবার খাওয়া হালাল  ,হারাম নয় । . তাই বিড়াল এর মত ছোট্ট পোষা প্রাণীকে খুব যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষ লালন পালন করেন।

কত মাস বয়সে বিড়ালকে ভ্যাকসিন দিতে হয়

বিড়াল ছোট্ট পোষা প্রাণী হলেও এর কামড়ে মানুষের ক্ষতি হতে পারে   । তাই বিড়ালের কামড়ে যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্যবিড়াল কে ভ্যাকসিন করে নেওয়া ভালো  ।  সাধারণত জিরো থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিড়ালকে ভ্যাকসিন দেওয়া সবচেয়ে উত্তম সময়  , তা ছাড়াও ৯০ দিন পরে ও বিড়ালকে ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়।

বিড়াল কামড়ালে যখন টিকা দিবেন

অত্যন্ত শখের বসে পোষা বিড়ালের কামড়ে যে ভয়ংকর বিপদ থাকতে পারে তা অনেক বিড়াল পোষা প্রেমীরা বুঝতেই চায় না ।  তবে হ্যাঁ এটাই বাস্তব ,  বিড়ালের কামড়ে ভয়ংকর ক্ষতি হতে পারে ।  তাই বিড়ালকে যখন বাসায় পোষবেন তখন খুবই সাবধানে থাকতে হবে  । বিড়াল আঁচড় দিলে বা কামড় দিলে যদি ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হয় ,  ফুলে যায়  ,তাহলে সাথে সাথে  গরম পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে তারপরও যদি চুলকানি ফোলা বা রক্ত পড়া ভালো না হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ‍ র‍্যাবিস টিকা নিতে হবে ।  তাছাড়া যদি বিড়ালের কামরে বা আসরে রক্ত বের না হয় তাহলে টিকা নেওয়ার তেমন প্রয়োজন নাই কিন্তু যে স্থানে আচর দিয়েছে ওই স্থান ভালোভাবে গরম পানি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে ।  তারপরও মনের ভয় কাটানোর জন্য টি টেনাস ইনজেকশন নেওয়া যেতে পারে । তবে তা নির্ভর করে বিড়ালটি কতটা সুস্থ ও রোগমুক্ত আছে । অন্যদিকে যদি বাইরের কোন বিড়াল আপনাকে কামড় বা আঁচড় দেয় এবং সেই স্থান থেকে রক্ত বের হয় তাহলে সাথে সাথে ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া উচিত ।  বাইরের বিড়াল গুলো সাধারণত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকে ,  তাই তাদের কামড়ে জলাতঙ্গ রোগ হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে ।   আমাদের উচিত দেরি না করে জলাতঙ্ক রোগের হাত থেকে বাঁচতে বিড়াল কামড়ের জন্য টিকা নেওয়া । 

বিড়াল-কামড়ালে-কি-ভ্যাকসিনদিতে-হয়


বিড়ালের আঁচরে বা কামড়ে করণীয় কি কি

প্রথমে আমি বলব ঘরের পোষা বিড়াল কিংবা বাইরের বিড়াল  যাতে আমাদের কামর বা আঁচড় না দিতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ও সতর্ক থাকতে হবে ।

প্রথমতঃ

 প্রতি সপ্তাহে বাসায় পোষা বিড়াল এর নখ কেটে দিতে হবে ,  তারপরও যদি বিড়াল কামর বা আঁচড় দেয় আর ওই ক্ষতস্থান যদি ফুলে যায় ,  রক্ত বের হয় তাহলে ওই ক্ষতস্থান গরম পানি ও অ্যান্টিসেপটি ক সাবান বা ডেটল দিয়ে প্রথমে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে যাতে ওই ক্ষতস্থানে কোন জীবাণু না জন্ম নিতে পারে এতে প্রাথমিক অবস্থায় ভয় দূর হবে । 

 দ্বিতীয়তঃ পানি ও সাবান দিয়ে পরিষ্কার করার পরেও যদি ফোলা বা রক্ত পরা না কমে তাহলে সাথে সাথে ২৪ ঘন্টার মধ্যে টিকা নিতে হবে ।

তৃতীয়তঃ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে রক্ত মুছে ফেলুন ।

চতুর্থতঃ কোন মলম বা তেল লাগাবেন না ।

পঞ্চমঃবিড়ালটি গৃহপালিত হলে তার টিকা দেওয়া আছে কিনা জেনে নিন ।

ষষ্ঠ   ঃ বিড়াল কি কি করলে কামড় দেয় ওই কাজগুলো এড়িয়ে চলবেন। 

সপ্তম   ঃবিড়াল যদি ভ্যাকসিন দেওয়া না থাকে তাহলে আপনি র‍্যাবিস টিকা নিতে পারেন । 

আরও পড়ুনঃমাসে ৫০০০০  টাকা আয় করার উপায়

বিড়ালের ভ্যাকসিনের নাম কি কি

বিড়াল কামড় দিলে সাধারণত দুইটা  ভ্যাকসিন  নিতে হয়

২) র‍্যাবিস বা জলাতঙ্গ  ভ্যাকসিন

২) টিটেনাস ভ্যাকসিন

বিড়ালের ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম

বিড়াল কামড়ে কি কি ভ্যাকসিন নিতে হয় তার নাম জেনে রাখা ভালো চলুন আমরা ভ্যাকসিন এর নাম গোলো জেনে নিই--

 র‍্যাবিস বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন

১ম রোজ কামড় দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মাঝে 

২য় ডোজ তৃতীয় দিনে 

৩য় ডোজ ৭দিনে

 ৪র্থ ১৪ তম দিনে 

 ৫ম ২৮তম দিনে

 বিড়ালের ভ্যাকসিন গুলো সব সময় মাংসপেশিতে দিতে হয়

টিটেনাস ভ্যাকসিন মূলত বিড়ালের কামড়ে বা আঁচড়ে  যদি শুধু দাগ হয় ,  কোন রক্ত না পড়ে না বা ফুলে যায় না ওই ভয় কাটানোর জন্য টিটেনাস ইনজেকশন নিয়ে রাখা উচিত

মৃত্যুর অপর নাম জলাতঙ্গ বা র‍্যাবিস

আপনি কি জানেন  জলাতঙ্গ রোগ খুবই মারাত্মক ।  প্রতিবছরই বিভিন্ন পোষা প্রাণীর কামড়ে মানুস এই জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ।  জ্বলতজ্ঞ রোগ হলে খুব কম মানুষই সঠিক সময় চিকিৎসা না পেলে বাচে না । তাই মৃত্যুর অপর নাম জলাতঙ্ক বা রাবিশ কথাটি মূলত জলাতঙ্ক রোগের ভয়াবহ তাকে বুঝানো হয়েছে  । রোগ মূলত বিড়াল ও কুকুর  শিয়াল এর কামড়ে হয়ে থাকে  । অনেক মানুষ বিড়াল কুকুরের কামড় খেয়ে খুবই সাধারণ ভাবে নেই । তারা বুঝতেই পারেনা তাদের এই অসাবধানতা তাদের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই রোগকে মৃত্যুর অপর নাম বলার কারণ হলো এই রোগের এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরী চিকিৎসা নেই । এই রোগের লক্ষণ যদি দেখা দেয় তাহলে ১০০% ই মানুষ মারা যায় কারণ এই রোগ  যদি কোন মানুষের শরীরে হয় তাহলে সবার আগে তার মস্তিষ্কে    আক্রমণ করে  , আর মস্তিষ্কে আক্রমণ করার ফলে মানুষ খুব দ্রুত মারা যায়।

বাচ্চা বিড়ালে কামড়ালে কি টিকা দিতে হয়

বাচ্চা বিড়াল কামড়ালে ভ্যাকসিন দিতে হয় কিনা তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ কিন্তু আজ  রাখেন  জলাতঙ্গ রোগ  খুবই ভয়ানক  । বাচ্চা বিড়াল কিংবা বড় বিড়াল যে বিড়ালে আপনাকে কামড়াক না কেন সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিলে আপনার জলাতঙ্ক রোগ থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা  । তাই বিড়াল ছোট বলে কামড়েছে এটা ভেবে নিজের প্রতি অবহেলা করবেন না  । এতে মারাত্মক বিপদ হতে পারে ।  বাচ্চাগুলো  যদি আপনাকে গারে ,মুখে ,  হাতে , পায়ে -কামড় দেয় বা আঁচড় দেয় তাহলে সাথে সাথে দেরি না করে এন্টি রেভিস  টিকা নিবেন । নিরাপদ থাকতে ও বাচতে চাইলে বাচ্চা বিড়াল বা বড় বিড়াল  কামরের মধ্যে কোন  ব্যবধান নাই এটা আপনার মাথায় রাখতে হবে অতএব সাবধান নিজের প্রতি যত যত্ন ও সাবধানে থাকুন। 

জলাতজ্ঞ রোগের লক্ষণ কি কি 

 জলাতঙ্গ রোগের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে । আপনার শখের পোষা প্রাণী থেকে এবং অসাবধানতা থেকে আপনার যে জলতঙ্গ হয়েছে তা কি করে বুঝবেন চলুন জেনে নেই ।

  1. অতিরিক্ত লালা বা লালা মিশ্রণ বৃদ্ধি
  2. গিলতে অসুবিধা হওয়া
  3. পানির প্রতি ভয়  হাইড্রো ফোবিয়া কারণ পানি পান করার সময় এটি তীব্র অস্বস্তির সৃষ্টি করে
  4. অনিদ্রা এবং বিভ্রান্তি
  5. উত্তেজনা এবং বিরক্তি 
  6. মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে
  7. প্রচন্ড মাথা ব্যথা ও জ্বর হবে , বমি হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ

বাইরের বিড়াল বাবা ঘরের বিড়াল যে বিড়ালে আপনাকে কামড়াক না কেন যদি ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বা ফুলা না কমে তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত  । ডক্টর যেভাবে বলবে তারপর পরামর্শ অনুযায়ী ‍র‍্যাবিস বা টিটিনাস  টিকা দিতে হবে এবং ডাক্তার যেভাবে বলবে তো ওই নিয়ম মত পাঁচটা ডোজ বা ভ্যাকসিন গুলো আপনাকে নিয়ম মেনে নিতে হবে মাংসপেশিতে । মনে রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ না মানলে বা সঠিক সময়ে আপনি টিকা গুলো না নিলে ভয়াবহ বিপদ থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা এমনকি আপনার মৃত্যু নিচ্ছিত তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী  ভ্যাকসিনগুলো কমপ্লিট করুন ।

বিড়াল-কামড়ালে-কি-ভ্যাকসিন-দিতে-হয়


শেষ কথাঃ

আমার মতে জলাতজ্ঞ রোগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সঠিক সময় সঠিক নিয়ম মেনে টিকা নেওয়া দরকার এবং বাসায় পোষা বিড়ালকে ভ্যাক্সিন ও বোস্টার ডোজ দিয়ে রাখা উচিত যাতে নিরাপদে ভাবে পোষা যায় আর বাইরের বিড়ালের  এমন কোন আচরণ করা উচিত না যা যা করলে ওই বিড়াল আপনাকে কামড়াতে পারে

আরও পড়ুনঃপহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

আপনার মতে বিড়াল পালন কতটা নিরাপদ এবং বিড়ালের কামড় দিলে সাথে সাথে পরামর্শ নেওয়া কতটা যৌক্তিক এবং টীকা নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনি মনে করেন এবং জলাতঙ্গ রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন আর কি করা উচিত বলে আপনার  মনে হয় কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাবেন ।নিজে ভালো থাকবেন অন্যকে ভালো রাখবেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url