পহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

 

পহেলা কথা মাথায় আসতে বুঝা যায় প্রথম। আর প্রথম কে সবাই নতুনভাবে বরণ করে নেই এটাই চিরচারিত নিয়ম। পুরাতনকে পিছনে ফেলে নতুন কে মানুষ বরণ করে নেয় তেমনি পহেলা বৈশাখ ২০২৬। ২০২৫ সালের সব কিছু পিছনে রেখে ২০২৬সালকে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বরণ বরণ করে নিয়ে মানুষের পথ চলা শুরু করে  ।

পহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

কবির  ভাষায় বলতে শুনেছি, এসেছে নতুন কুড়ি তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান হ্যাঁ এটাই বাস্তব নতুন  কে পেলে  মানুষ পুরাতনকে ভুলে যায় নতুন বছরের আশা আকাঙ্ক্ষা অনেক স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা শুরু করে।  অনেকে মনে করেন পুরাতন বছরে যা হইছে তা আমরা ভুলে গিয়ে নতুনকে বরণ করে নতুন ভাবে পথ চলা শুরু করব এই কথা মাথায় রেখে মানুষ অত্যন্ত আনন্দের সাথে নতুন কে বরণ করে নেয়। এই দিনে নতুন কে বরণ করার জন্য সমস্ত বাঙালি গুষ্টি এক সুরে গান গেয়ে পহেলা বৈশাখ কে বরণ করে নেয় । পুরাতন বছরের সব দুঃখ কষ্ট ,ঝরা জীর্ণ তাকে পিছনে ফেলে সমস্ত বাঙালি রা এক সুরে গেয়ে ওঠে এসো এসো এসো হে বৈশাখ এই গান। এই আগমনি গানের মধ্য দিয়েই পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম মাস বাঙ্গালীদের জীবনে নতুন সুখ বাতা  হয়ে শুরু হয় ।

পেইজ কন্টেন্ট সুচিপত্রঃ পহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

পহেলা বৈশাখ কি

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এটি বাঙালি জাতির সবচেয়ে আনন্দময় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল কখনো ১৩ বা ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গসহ সমগ্র বাঙালি সমাজে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয।।এই দিনকে নতুন বছরের শুরু নয় বরং নতুন আশা নতুন স্বপ্ন এবং বাঙালি সংস্কৃতির পূর্ণ জাগরণের প্রত।

আরও পড়ুনঃ মাসে ৫০০০০  টাকা আয় করার উপায়

পহেলা বৈশাখ কে বাংলা নববর্ষ বলা হয়  ।এটি ঋতু পরিবর্তনের সাথে যুক্ত। বৈশাখ মাস গ্রিস্মেকাল শুরু হয় । কৃষকেরা নতুন ফসল গড়ে তোলেন ব্যবসায়ীরা হালখাতা খুলেন আর সাধারণ মানুষ নতুন জামা কাপড় পড়ে উৎসবে মেতে উঠেন  ।এই উৎসব  ধর্মনিরপেক্ষ সকল ধর্মের মানুষ একসাথে উদযাপন করেন । এতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রকাশ ঘটে সবচেয়ে সুন্দর ভাবে ,সকলে মিলে একসাথে বাধা পড়ে এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে।

২০২৬ সালের পহেলা বৈশাখ কত তারিখঃ

 পহেলা বৈশাখ ২০২৬ (বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩)

 ইংরেজি তারিখ ১৪ই এপ্রিল ২০২৬মঙ্গলবার। শুরু হয় রাত বারোটা থেকে

 ১৪ এপ্রিল থেকে নতুন বছরের শুরু

১৪৩৪ বঙ্গাব্দ 

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পহেলা বৈশাখের উৎপত্তি হয় মোগল যুগে  ।সম্রাট আকবরের সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থা সহজ করার জন্য ফসলি সন প্রবতন করা হয় । ১৫ ৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর ফসলি সন চালু করেন,  বাংলা সনের সূচনা এভাবেই শুরু হয়  ।  বাঙ্ন্জালিরা  নিজেদের জন্য সাংস্কৃতিক অংশ করে নেই ।  ব্রিটিশ আমলে এই উৎসব আরো জনপ্রিয় হয় কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৬০এর দশকে ।  পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিরোধ হিসেবে পহেলা বৈশাখ কে উদযাপন শুরু করা হয় ।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ছাত্র শিক্ষকরা  শোভাযাত্রা শুরু করেন ।  ১৯৬৯ সাল থেকে এটি আরো বড় আকার ধারণ করে । ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অস্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং ২০১৬ সালে এটি মানবতার অধরা সাংস্কৃতি ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে।

পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব প্রস্তুতি আয়োজন

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি শুরু হয় আগে থেকেই  । ঘর বাড়ি পরিষ্কার করা , নতুন জামা কাপড়  ,  পান্তা ইলিশের আয়োজন সবই চলে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খুলে নতুন হিসাব শুরু করেন  । গ্রামে গ্রামে মেলা বসে ,  শহরে বড় মঞ্চ বানানো হয় , সকাল থেকেই শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা , ঢাকার চারুকলা থেকে বের হয় বিশাল শোভাযাত্রা বিভিন্ন মুখোশ পুতুল ড্রাম, পোশাক সবমিলিয়ে এক অসাধারণ দৃশ্য শোভাযাত্রায় থাকে বা বা হাতি ফুল হাজার হাজার মানুষ স্লোগান উঠে -"এসো নতুন বছর মুছে যাক সব দুঃখ কষ্ট"।

পহেলা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

পহেলা বৈশাখের দিন সারাদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে ।  রমনা বটমূলে ছায়া নোটের অনুষ্ঠান সবচেয়ে বিখ্যাত বিকাল থেকে শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীত ,  নজরুল গীতি  , লোকগান ---"এসো হে বৈশাখ এসো এসো" সবাই  শহরের বিভিন্ন পাড়ায় ক্লাবে স্কুল কলেজে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  । না চ গান কবিতা আবৃত্তি নাটক পরিবেশিত হয় .

 গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালা  , কীর্তন  , বাউল গানের আসর বসে খাবারের মধ্যে পান্তা ওই ইলিশ মাছ তাদের প্রধান খাবার মূল আকর্ষণ হয়  । এই দিনে ভাতের সাথে ডাল বড়া, শুকনা মরিচ আচার এই সাধারণ মানুষের খাবার হয়ে উঠে উৎসবের মেইন আকর্ষণ এছাড়াও এই দিনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি সন্দেশ ব্যবসায়ীরা মিষ্টি বিতরণ করেন।

পোশাক ও সাঁজসজ্জা

পহেলা বশাখে নতুন পোশাক পরার রীতি খুবই প্রাচীন । মেয়েরা পরেন লাল সাদা শাড়ি  , ছেলেরা পাঞ্জাবি -পাজামা ,  অনেকে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়েন মাথায় ফুলের মালা  ,হাতের চুড়ি , কপালে টিপ ,  এসব দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়।  শিশুরা নতুন জামা পেয়ে অনেক আনন্দ করে বয়স্করা স্মৃতি মনে করেন এই দিনে সবাই একে অপরকে শুভ নববর্ষ বলে শুভেচ্ছা জানান আর এইভাবেই নতুন বছরকে সবাই বরণ করে নেন । 


পহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

গ্রামীণ ও শহরের উদযাপনের পার্থক্য

গ্রামে পহেলা বৈশাখ আরো স্বাভাবিক ও ঘুরোয়া   । কৃষকেরা নতুন ফসল কাটেন , গরু ছাগলকে সাজান মেলায় যা্‌ণ , হাটে বাজারে নতুন জিনিসপত্র বিক্রি হয় , শহরের মানুষ এটি আরো জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করেন  , তাদের পালনে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকে ।  টেলিভিশন ,  ফেসবুক , ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচার হয় কনসার্ট ফ্যাশন শো ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হয় ।  তবে শহরে উদযাপন কখনো কখনো বাণিজ্যিকতা প্রবেশ করে যা সকলের কাছে ভালো মনে হয় না  । পহেলা বৈশাখ মূলত গ্রামীণ উদযাপন খুবই সুন্দর এবং  গ্রামে মানুষ বিভিন্ন মেলায় যায় ভালো ভালো খাবার রান্না করে  , উঠানে প্রাচীন নীতি অনুসরণ করে ,  এগুলোর মধ্যেই বাংলা নববর্ষকে তারা নতুনভাবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বরণ করে।

পহেলা বৈশাখের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পহেলা বৈশাখ অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে ।  সারা বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিভিন্ন দোকান যেমন  কাপড়ের দোকান ,মিষ্টির দোকান  ,রেস্টুরেন্ট,  বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীরা সারা বছর দ্বার বাকি দেয়  বিক্রি করেন ।  কিন্তু তাদের মনে একটা আশা থাকে পহেলা বৈশাখে হালখাতা করে একসাথে টাকা উঠাবে  । 

আরও পড়ুনঃ মুখে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহারের নিয়ম।

 হালখাতা খুলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান মিষ্টি বিতরণ করে ক্রেতাদের নিকট থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে টাকা আদায় করেন ।  এতে অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে এবং এই উৎসবের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক সুষম্পর্ক বজায় থাকে।

আধুনিক যুগে পহেলা বৈশাখ

আধুনিক যুগে পহেলা বৈশাখ এক অন্যভাবে মানুষ পালন করার চেষ্টা করে , আগেকার দিনে গ্রামীণ সংস্কৃতি তারা পালন করতে দ্বিধাবোধ করেন ।  বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ , সোশ্যাল মিডিয়ায় পহেলা বৈশাখের উদযাপনের বিভিন্ন ছবি ভিডিও ভাইরাল হয় যুবসমাজ যুব সমাজ নতুন নতুন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ,  কেউ কেউ বিদেশে থেকেও অনলাইনে অংশ নেন তবে কিছু কিছু সমস্যা ও হয় এই দিনে, ট্রাফিক দিনে্‌  নিরাপত্তা পরিবেশ  দূষণ এর সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে বলা যায়। আধুনিক যুগে পহেলা বৈশাখ কে মানুষ আধুনিকভাবে বরণ করার সুন্দর আয়োজন করে।

১৪ এপ্রিল কেন পহেলা বৈশাখ

১৪ই এপ্রিল এই দিনটিকে পহেলা বৈশাখ হিসেবে ধরা হয় তার পিছনে ইতিহাস ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্পর্ক আছে। বাংলা সনে শুরু হয় বৈশাখ মাসের প্রথম তারিখ দিয়ে  ।বাংলা ক্যালেন্ডার মূলত সূর্য ভিত্তিক ।  আর এই সূর্য যখন মেঘ রাশিতে প্রবেশ করে তখন তাকে সংক্রান্তি বলে তখনই শুরু হয় বাংলা নতুন বছর ।  আর এই মেঘ সংক্রান্তি মূলত প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল বা ১৩  ও ১৫ এপ্রিলের মধ্যে হয়ে থাকে তাই পহেলা বৈশাখ মূলত ১৩,১৪ ও ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা এই দিনের মূল আকর্ষণ

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের এই দিনের মূল আকর্ষণ হল মঙ্গল শোভাযাত্রা ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ছাত্র শিক্ষকরা বিভিন্ন মিছিল বের করে ও শোভাযাত্রা বের করে তাদেরকে অনুসরণ করে সারা বাংলাদেশে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র শিক্ষকরা বিভিন্ন মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ কে নতুন রূপে , নতুন ভাবে , নতুন স্বপ্ন নিয়ে  ,নতুন কিছু পাওয়ার আশায় বরণ করে নেয় বাংলা নববর্ষ  পহেলা বৈশাখ কে তারা একসাথে এক সরে গেয়ে উঠে আগমনী গান --'এসো এসো হে বৈশাখ এই গানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাংলা নববর্ষের বাংলা বাংলা মাসের প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিন"।

শেষ কথা
পহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬

আমার মতে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন খুবই আনন্দময়  । আমি এই দিনটি খুব আনন্দ করে মজা করে , বিভিন্ন পোশাক পড়ে , বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে  ,উদযাপন করি ।  পুরাতন বছরের সকল কিছুকে ভুলে গিয়ে নতুন কে বরণ করার স্বাদ আমার কাছে অন্যরকম । ফেলে আসা বছরের দুঃখ কষ্ট সুখ জরাজীর্ণতা কে ভুলে নতুনভাবে নতুন বছরে কিভাবে ভাল থাকব সেই প্রত্যাশা নিয়ে নতুন কে বরণ করা এবং আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর ইবাদত করে  জিবন টা শুরু করা আমার জিবনের লক্ষ্য ।

আরও পড়ুনঃসুন্দর ও স্বস্থ জিবন যাপনে গাজরের ভুমিকা

  আপনার মতে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ । আমার মত আপনিও পুরাতন দুঃখ-কষ্ট জরা জিহ্নতা থেকে পিছনে ফেলে নতুন কে নতুনভাবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বরণ করে নিতে পারেন । এতে জীবনে সুখ শান্তি বজায় থাকবে  ,নতুন কিছু পাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম তাই পুরাতন কে ঝেড়ে ফেলে নতুন কে বরণ করে জীবন শুরু করা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url