নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দিলে কি হয় ? উপকারিতা ও সতর্কতা জেনে নিন।
monyrakho
১ জুল, ২০২৬
রূরুপচর্চায় নিম আর কাঁচা হলুদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে কিন্তু ভুল নিয়মে ব্যবহারে
ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই এর সঠিক ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
জানা দরকার। জানতে হলে চোখ রাখুন আমার আর্টিকেলে।
আজকাল রূপচর্চা করার জন্য কেমিক্যাল মুক্ত পণ্য বাজারে পাওয়া খুবই কষ্টকর,আর নকল পণ্য ত্বকের ক্ষতি করে ফলে আজকাল অনেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে নিজেকে সুন্দর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। নিম আর হলুদ যেমন উপকারি, ঠিক তেমনই সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে মুখের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মুখের ত্বককে দাগহীন ও উজ্জ্বল করতে চাইলে আর্টিকেলে বলা সঠিক নিয়ম ও সতর্কতাগুলো একবার দেখে নিন।
পেইজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দিলে কি হয়? উপকারিতা ও
সর্তকতা জেনে নিন
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখের জন্য কেন সেরা জেনে নিন
১. আমাদের মধ্যে অনেকেরই মুখে ব্রণ অর্থাৎ ছোট ছোট গোটা বা ফুসকুরি দেখা
দেয়। ফলে মুখের তবকে ত্বকে ছোট ছোট গর্ত এবং অনেক দাগ দেখা দেয়। নিম পাতায়
রয়েছে ভিটামিবকে,ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যালসিয়াম,আয়রন,ভিটামিন
সি,ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কুষ্টি উপাদান।নিমপাতা থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল
ত্বকের মধ্যে থাকা জীবাণু ত্বকের ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়।আর কাঁচা
হ্লুদ ব্রণ থেকে সৃষ্টি হওয়া ব্যথা কমিয়ে ত্বকে উজ্জ্বল করে ও
সুস্থ কবক তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. আমাদের মধ্যে অনেকেরই আছে বয়সের কারণে হোক বা বিভিন্ন কারণে -যেমন রোদে
বেশিক্ষণ থাকার কারণে আমাদের মুখে বয়সের ছাপ ও বিভিন্ন কালো দাগ পড়ে যায়।
মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনে ব্যবহার
করেন অনেকেই জানেন না প্রাকৃতিক উপায়ও মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব
যেমন কাঁচা হল হলুদ সঠিক নিয়মে মুখে ব্যবহার করলে মুখের কালো দাগ এবং বয়সের
ছাপ খুব সহজেই দূর হয় কারণ কাঁচা হলুদের থাকা কারণ কাঁচা হলুদে থাকা 'কারকিউমিন' ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে
ভেতরের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। আর নিম পাতা ত্বকের মরা কোষ দূর করে মুখকে করে
তোলে একদম ফ্রেশ ও দাগহীন।
৩ কাঁচা হলুদ নিমপাতা এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব
দূর করে। নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক মুখের বাড়তি তেল বা সিবাম নিয়ন্ত্রণ করতে দারুণ
কাজ করে। এর ফলে ত্বক তেলমুক্ত থাকে, কিন্তু নিজের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়
না।
৪. অনেকেরই এলার্জি জনিত কারণে ধুলাবালি আর দূষণের কারণে আমাদের ত্বকে
প্রায়ই র্যাশ, চুলকানি বা ছোটখাটো ইনফেকশন দেখা দেয়। নিম আর হলুদ দুটোর মধ্যেই
রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান। যা কোনো
সাইড-ইফেক্ট ছাড়াই ত্বকের যেকোনো চুলকানি বা অ্যালার্জি রাতারাতি শান্ত করে
দেয়। এবং ত্বক থাকে উজ্জ্বল,নরম এবং প্রাণবন্ত।
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের চমৎকার উপকারিতা নিম পাতা ও কাঁচা কাঁচা হলুদ
ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে নিচে তুলে ধরা হলো
কাঁচা হলুদে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল পুষ্টিগুণ আর আমাদের মুখে বিভিন্ন
কারে কারণে ব্রণ হয়ে দাগ পড়ে যায় এ দাগ নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেন
কিভাবে এই দাগ থেকে এটা দূর করা যাবে ুদের থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল
ব্রণের জীবাণু ভিতর থেকে মেরে ফেলে এবং ব্রণ থেকে তৈরি হওয়া মুখের দাগগুলো
খুব সহজেই চলে যায় দাগ মুক্ত করে কাঁচা হল ত্বককে করে তুলে উজ্জ্বল আর
প্রাণবন্ত এবং দাখিল দাগ হীন
সারাদিন রোদে ঘুরাঘুরি এবং ধুলাবালির কারণে ত্বক অনেক সময় মলিন দেখায় ।
হলুদে থাকা পুষ্টি উপাদান যা ত্বকের ভেতরের কালচে ভাব দূর করে ত্বকের
আসল উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে এনে দেয়। আর নিম পাতা মুখের মরা চামড়া তুলে ফেলে
ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে । ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
নিম পাতা আর হলুদে রয়েছে অ্যান্টিসেপটির পুষ্টি উপাদান যা ব্যবহারে ত্বকের
যেকোনো চুলকানি বা ইনফেকশন জনিত কোন সমস্যা তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যায়। তাই
ত্বকের চুলকানি, রেশ উঠা এবং ফুসকুড়ি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিম
ও হলুদ একসাথে ব্যবহার করতে পারেন।
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহারের অপকারিতা সুবিধার পাশাপাশি যে এর এই
প্রাকৃতিক উপাদান দুটি অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কিছু অসুবিধা রয়েছে তার নিচে
তুলে ধরা হলো
কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক উপাদান হলেও কাঁচা হলুদের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
অ্যান্টি সেপটিক পদার্থ তাই সরাসরি কাঁচা হলুদ বেশি পরিমাণে মুখে লাগালে ত্বক
জ্বালাপোড়া করতে পারে। এমনকি চামড়া সাময়িকভাবে পুড়ে যাওয়ার মতো লাল
হয়ে যেতে পারে। তাই সবসময় কাঁচা হলুদের সাথে দুধ, মধু বা বেসন মিশিয়ে নিয়ে
ব্যবহার করবেন এতে ভালো ফলাফল পাবেন।
নিম পাতা মুখের অতিরিক্ত তেল দূর করতে দারুণ কাজ করে, কিন্তু যাদের
ত্বক এমনিতেই অনেক শুষ্ক তারা যদি বেশি নিম পাতা ব্যবহার করেন তবে ত্বক আরও
খসখসে হয়ে ফেটে যেতে পারে। তাই শুষ্ক ত্বকে এটি ব্যবহারের পর ভালো
ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত।
হলুদ বা নিম মুখে দেওয়ার পর পরই কড়া রোদে বা চুলার আগুনের কাছে যাওয়া
একদম ঠিক না, এতে ত্বক উল্টো কালো হয়ে যেতে পারে। আর সবার ত্বক একরকম হয়
না; তাই মুখে লাগানোর আগে হাতের চামড়ায় একটু লাগিয়ে (প্যাচ টেস্ট) দেখে
নেওয়া উচিত যে চুলকায় কি না। প্যাস টেস্ট করার পর যদি কোন সাইড ইফেক্ট না
থাকে তাহলে ব্যবহার করবেন।
কাঁচা হলুদ মুখে ব্যবহারের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন
উপকারিতাঃরূপচর্চায় যুগ যুগ ধরে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে, কারণ এটি
ত্বকের ভেতরের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কাজ করে। মুখে নিয়মিত কাঁচা হলুদ
লাগালে ব্রণের জেদি কালো দাগ এবং রোদে পোড়া ভাব খুব দ্রুত হালকা হয়ে যায়। এর
মধ্যে থাকা অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান মুখের যেকোনো ইনফেকশন, র্যাশ এবং ব্রণের
জীবাণু গোড়া থেকে ধ্বংস করে। যাদের ত্বকে বয়সের ছাপ বা কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা
আছে, কাঁচা হলুদ তা দূর করে ত্বককে টানটান ও লাবণ্যময় রাখে। কেমিক্যাল ছাড়া
ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা ও দাগহীন করতে কাঁচা হলুদের কোনো জুড়ি নেই।
অপকারিতা ও সতর্কাঁকতাঃকাচা হলুদ প্রাকৃতিক উপাদান হলেও এটি ত্বকের জন্য অনেক
কড়া, তাই সরাসরি কাঁচা রস মুখে দিলে ত্বক জ্বালাপোড়া বা লাল হতে পারে। কাঁচা
হলুদ একটানা বেশি সময় মুখে রেখে দিলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে মুখ
অতিরিক্ত শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। এছাড়া হলুদ মাখার পর পরই কড়া রোদে বা
রান্নাঘরের চুলার আগুনের কাছে গেলে ত্বক উজ্জ্বল হওয়ার বদলে উল্টো কালো হয়ে
যেতে পারে। সবার ত্বক এক রকম হয় না, তাই অনেকের ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ থেকে
মুখে অ্যালার্জি বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠার ভয় থাকে। এজন্য সবসময় হলুদের সাথে
একটু দুধ বা মধু মিশিয়ে ব্যবহার করা ভালো এবং মুখে লাগানোর আগে গলায় বা হাতে
একটু মেখে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের রস কি প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে
প্রতিদিন খাওয়া ঠিক কিনাঃ নিমপাতা আর কাঁচা হলুদের রস শরীরের জন্য অনেক উপকারি
হলেও, এটি প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়া একদমই ঠিক নয়। দুটো উপাদানই অনেক শক্তিশালী
হওয়ায় প্রতিদিন খেলে উপকারের চেয়ে শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। তাই
সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন সকালে খালি পেটে এটি খাওয়া যেতে পারে, তবে
একটানা দীর্ঘদিন খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বলে আমার মনে হয় ।
প্রতিদিন খেলে কি ক্ষতি হতে পারেঃ যদি কেউ প্রতিদিন একটানা নিমপাতা ও হলুদের রস
খেতে থাকেন, তবে তার লিভার ও কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে
নিমপাতা প্রতিদিন খেলে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া এবং হজমের
সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এটি শরীরের রক্তের শর্করা বা সুগার অনেক বেশি
কমিয়ে দেয়, যা হঠাৎ করে মাথা ঘোরানো বা এবং শরীর দুর্বল লাগতে পারে।
মুখে নিম ও হলুদ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জেনে নিন
১. প্যাক তৈরি করার সঠিক মিশ্রণ পদ্ধতি হলো, নিম আর হলুদ মুখে লাগানোর জন্য প্রথমেই উপাদানগুলোর পরিমাণ সম্পর্কে জানা খুব
জরুরি। ৪-৫টি নিম পাতা ভালো করে বেটে নিয়ে তার সাথে মাত্র এক চিমটি কাঁচা হলুদ
বা কয়েক ফোঁটা হলুদের রস মেশাতে হবে। হলুদ যেহেতু অনেক কড়া, তাই মিশ্রণটি নরম
করতে এর সাথে সামান্য কাঁচা দুধ, মধু বা চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
২. ফেসপ্যাকটি
মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই যেকোনো ভালো ফেসওয়াশ বা পানি দিয়ে মুখটা
ভালোভাবেপরিষ্কার করে মুছে নিতে হবে। এরপর চোখের চারপাশ এবং ঠোঁটের অংশ বাদ
দিয়ে পুরো মুখে মিশ্রণটি আলতো হাতে সমানভাবে লাগিয়ে নিন। কোনো অবস্থাতেই
প্যাকটি মুখে ঘষাঘষি করা যাবে না, এতে ত্বকে দাগ বা র্যাশ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে।
৩.মুখে লাগানোর পর
প্যাকটি পুরোপুরি শুকিয়ে চামড়া টেনে ধরা পর্যন্ত রাখবেন না। মাত্র ১০ থেকে ১৫
মিনিট মুখে রেখে যখন দেখবেন প্যাকটি হালকা শুকিয়ে এসেছে, তখন সাধারণ পানিদিয়ে
মুখটা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে ত্বকের
ধরন অনুযায়ী একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
৪ কোন জিনিসের অতিরিক্ত ব্যবহার করা ঠিক না। প্রাকৃতিক জিনিস হলেও এটি রোজ রোজ মুখে মাখলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা খসখসে
হয়ে যেতে পারে। সুন্দর ও দাগহীন ত্বক পেতে সপ্তাহে মাত্র ১ থেকে ২ দিন এই
প্যাকটি ব্যবহার করাই যথেষ্ট। আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি এটি সন্ধ্যার পর বা রাতে
ব্যবহার করেন, কারণ হলুদ মাখার পর রোদে বা চুলার আগুনে গেলে ত্বক কালো হয়ে যায়।
নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে ব্যবহারের আগে কিছু সতর্কতা জেনে নিন
নিম পাতাও কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক উপাদান হলেও এর ব্যবহার করার আগে
কিছু সতর্কতা জানা জরুরী। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে কোন কিছু মুখে
লাগানোর আগে এটা অন্য কোথাও লাগিয়ে টেস্ট করে নেওয়া উচিত। অর্থাৎপ্যাচ
টেস্ট করা।নিম আর হলুদ মুখে সরাসরি লাগানোর আগে অবশ্যই কানের পেছনে বা হাতের চামড়ায়
অল্প একটু লাগিয়ে টেস্ট করে নেওয়া উচিত। কারণ অনেকের ত্বকেই এই দুটো উপাদান
সহ্য হয় না এবং এজন্য হঠাৎ করে মুখে দিলে র্যাশ বা চুলকানি শুরু হতে পারে।
এছাড়া মিশ্রণে হলুদের পরিমাণ সবসময় সামান্য রাখতে হবে, নিম পাতা এবং হলুদ
মিশ্রণে হলুদের পরিমাণ কম রাখতে হবে কারণ বেশি হলে মুখের চামড়া লাল হয়ে
পড়ে যেতে পারে।
কথা ও হলুদ নিম পাতা ও হলুদ মুখে ব্যবহার করার আগে কয়েকটি জিনিস জানা
জরুরি যেমন নিমও হলুদ মুখে দিয়ে করা রোদে যাওয়া যাবে না,রান্নাঘরে চুলার
আগুনে কাছে যাওয়া যাবে না এবং মিশ্রনে সব সময় হলুদের পরিমাণ কম রাখতে
হবে। মনে রাখবেন কাঁচা হলুদ আর নিম মুখে লাগিয়ে যদি এই কাজগুলো করেন
তাহলে ত্বক উজ্জ্বল হওয়ার বদলে উল্টো কালচে হয়ে যাবে। সবচেয়ে ভালো হয় রাতে ঘুমানোর
আগে এটি ব্যবহার করলে এবং মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ত্বকে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার
লাগিয়ে নিবেন। আর প্রাকৃতিক হলেও এটি মুখে ২০ মিনিটের বেশি রাখা ঠিক নয় এবং
সপ্তাহে ২ দিনের বেশি ভুলেও ব্যবহার করা উচিত নয়।
নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানুন
নিম পাতায় রয়েছে নিম পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এবং ভিটামিন ই অনেকে নিমপাতা কে প্রকৃতির এক ওষুধ হিসেবে চিনে থাকেন। এছাড়া
এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও আয়রন আমাদের হাড় ও রক্ত পরিষ্কার রাখতে ভেতর থেকে
সাহায্য করে। আর এর শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীর ও ত্বকের
যেকোনো ক্ষতিকর জীবাণুকে নিমেষেই ধ্বংস করে দেয়।
কাঁচা হলুদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর মধ্যে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামের একটি
জাদুকরী উপাদান, যা শরীরের যেকোনো প্রদাহ বা ভেতরের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে
তোলে। একই সাথে এতে আছে প্রচুর ভিটামিন-সি, যা আমাদের ত্বকের কোলাজেন
উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। প্রাকৃতিকভাবে
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে কাঁচা হলুদের কোনো বিকল্প
নেই।
যখন নিমপাতা আর কাঁচা হলুদ একসাথে মেশানো হয়, তখন এদের পুষ্টিনের পুষ্টিগুণ
শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং তার প্রভাব আমাদের ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে
ত্বক পরিষ্কার করতে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ
সাহায্য করে।
স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহারের
পরামর্শ
স্তন্যদানকারী মায়েদের হরমোনের ওঠানামার কারণে মুখে প্রায়ই মেছতা বা ব্রণের
দাগ দেখা দেয়, যা দূর করতে তারা মুখে নিম ও হলুদ লাগাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে
হবে, প্যাকটি দেয়ার সময় যেন বুকের দুধ খাওয়ানোর অংশে বা বাচ্চার সংস্পর্শে আসে
এমন কোথাও লেগে না থাকে। কারণ নিমের তেতো স্বাদ এবং হলুদের কড়া গন্ধের কারণে
শিশু দুধ খেতে অনিহা প্রকাশ করতে পারে বা তার ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।
মায়েরা মুখে এটি ব্যবহার করতে পারলেও, এই সময়ে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের রস খাওয়া
থেকে একদম দূরে থাকা উচিত। কারণ মা যা খান, তার প্রভাব সরাসরি বুকের দুধের
মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে গিয়ে পড়ে এবং এই দুটি উপাদান শিশুর নরম পাকস্থলীর জন্য
অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।। এর ফলে বাচ্চার পেট খারাপ, হজমের সমস্যা বা বমি
হওয়ার মতো বড় ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পার
মায়ের দুধ পান করানোর সময়টাতে বাচ্চার নিরাপদের কথা চিন্তা করে যেকোনো
প্রাকৃতিক বা ভেষজ জিনিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাই মুখে
প্যাক হিসেবে নিয়মিত মাখার আগে বা সামান্য পরিমাণেও খেতে চাইলে অবশ্যই একবার
অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, এই সময়ে নিজের সামান্য
অসতর্কতাও যেন ছোট্ট শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ খাওয়া এড়িয়ে চলবেন
যারা সন্তানসম্ভবা বা গর্ভবতী, তাদের জন্য নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের রস খাওয়া
এড়িয়ে চলবেন , কারণ এটি জরায়ুর ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে স্তন্যদানকারী
মায়েদেরও এটি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এই শক্তিশালী
উপাদান শিশুর পেটে গিয়ে বাচ্চার হজমের সমস্যা বা পেট খারাপ ঘটাতে পারে।
যারা নিয়মিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের এই রস খাওয়ার
ক্ষেত্রে অনেক সাবধান হতে হবে। নিমপাতা ও হলুদ রক্তের সুগার এবং প্রেসার হুট
করে অনেক বেশি কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে ওষুধের সাথে এটি বিক্রিয়া করে শরীর
অতিরিক্ত দুর্বল হওয়া বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো বিপদ ঘটতে পারে।
যাদের আগে থেকেই লিভার বা কিডনির বড় কোনো সমস্যা আছে, তাদের এই কড়া মিশ্রণটি
হজম করতে সমস্যা হয় এবং অঙ্গগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এছাড়া সামনে কোনো অপারেশন
বা সার্জারি হওয়ার কথা থাকলে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে এটি খাওয়া বন্ধ রাখতে
হবে, কারণ হলুদ রক্ত জমাট বাঁধার গতিকে ধীর করে দেয়।
নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে খাওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
১.নিমপাতা আর কাঁচা
হলুদ খাওয়ার সবচেয়ে সেরা সময় হলো সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া। ৪-৫টি তাজা নিমপাতা
এবং ছোট এক টুকরো কাঁচা হলুদ ভালো করে ধুয়ে একসাথে বেটে বা রস করে নিতে হবে।
যেহেতু এই মিশ্রণটি খেতে ভীষণ তেতো আর কড়া হয়, তাই সহজে গিলে ফেলার জন্য এর
সাথে এক চামচ খাঁটি মধু বা সামান্য হালকা গরম জল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
২. খাওয়ার পরিমাণ ও কতদিন খাবেন ,এই মিশ্রণটি উপকারি হলেও প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়া শরীরের জন্য একদমই ঠিক নয়।
সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন সকালে এটি খাওয়া উচিত এবং একটানা এক মাসের
বেশি কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এক মাস খাওয়ার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিনের একটা
লম্বা বিরতি দিয়ে তারপর আবার চাইলে খাওয়া শুরু করা যেতে পারে।
৩. নিম আর
হলুদের রস খাওয়ার পর অন্তত আধ ঘণ্টা অন্য কোনো ভারী খাবার বা চা-কফি খাওয়া থেকে
বিরত থাকা ভালো। এতে ভেষজ উপাদানগুলো শরীরের ভেতর গিয়ে রক্ত ও লিভার পরিষ্কার
করার কাজটা ঠিকঠাক মতো করার সময় পায়। তবে এটি খাওয়ার পর যদি কারো পেট কামড়ানো,
বুক জ্বালাপোড়া বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হয়, তবে সাথে সাথে এটি খাওয়া বন্ধ করে
দিতে হবে।
নিম পাতাও কাঁচা হলুদ সম্পর্কে মানুষের জিজ্ঞাসা
১. প্রশ্ন: নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে মাখলে কি সত্যিই গায়ের রং ফর্সা
হয়?
উত্তর: দেখুন, রাতারাতি
অলৌকিক কিছু হয়ে গায়ের রঙ একদম বদলে যাবে না। তবে কাঁচা হলুদ আর নিমের নিয়মিত
ব্যবহারে ত্বকের ভেতরের কালচে দাগ, রোদে পোড়া ভাব এবং ব্রণের দাগ দূর হয়ে যায়।
যার ফলে ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার, উজ্জ্বল আর ফ্রেশ দেখায়, যেটাকে
আমরা 'ন্যাচারাল গ্লো' বলি।
২. প্রশ্ন: এই ফেসপ্যাকটি মুখে দিয়ে কতক্ষণ রাখা ভালো
উত্তর:এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে খুব বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখা উচিত। অনেকেই ভাবেন পুরোপুরি শুকিয়ে চামড়া টেনে ধরা
পর্যন্ত রাখলে বেশি উপকার, যা একদম ভুল ধারণা। প্যাকটি হালকা ভেজা থাকা
অবস্থাতেই সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা ভালো, নতুবা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে
পারে।
৩. প্রশ্ন: রোদে যাওয়ার আগে কি নিম-হলুদ মুখে লাগানো যাবে?
উত্তর: না! কাঁচা
হলুদ মুখে মেখে কড়া রোদে বা রান্নাঘরের চুলার আগুনের কাছে গেলে ত্বকে ভালো
হওয়া থেকে মুখ উল্টো কালো হয়ে যেতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ সময় হলো বিকেলে
বা রাতে ঘুমানোর আগে এই প্যাকটি ব্যবহার করা।
৪. প্রশ্ন: নিম আর হলুদ খেলে কি রক্ত পরিষ্কার হয়
উত্তর: হ্যাঁ, একদম সত্যি।
নিম আর হলুদের মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা শরীরের ভেতরের টক্সিন বা
বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে নিয়ম মেনে এটি খেলে
লিভার ভালো থাকে এবং রক্ত পরিষ্কার হয়, যার সরাসরি প্রভাব মুখের ত্বকে দেখা
যায়।
লেখকের নিজস্ব মতামত
পরিশেষে লেখক হিসেবে আমার পরামর্শ হলো, বাজারের নামী-দামী কেমিক্যালযুক্ত
প্রোডাক্টের চেয়ে প্রকৃতির এই দুই উপহার—নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ ত্বকের সুরক্ষায়
সবচেয়ে সেরা। তবে ভেষজ উপাদান হলেও এগুলো কিন্তু বেশ কড়া, তাই সবার আগে নিজের
ত্বকের ধরন বুঝে এবং সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করাটাই হবে আসল বুদ্ধিমানের কাজ। অতি
লোভে পড়ে প্রতিদিন মুখে মাখা বা নিয়ম ছাড়া রস খাওয়ার অভ্যাস উপকারের চেয়ে উল্টো
বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তাই সুন্দর, দাগহীন ত্বক ও সুস্থ শরীর পেতে তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে
সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এই প্রাকৃতিক উপায়টি ব্যবহার করুন।
এবং আরো প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে হলে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে
ব্যবহার সম্পর্কে তাহলে আমার লেখা পুরো আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন কারণ
আমি আর্টিকেলে তুলে ধরেছে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও এর
সঠিক পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে
শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন ধন্যবাদ
মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url