বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা সম্পর্কে জানার উপায়

 বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা সম্পর্কে জানলে সত্যিই অবাক হতে পারেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েও হাজারো মানুষ এমন কাজ করে যাচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।
বিশ্বের-সবচেয়ে-ভয়ংকর-ও-বিপজ্জনক-কিছু-পেশা
কোন পেশায় মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং কেন এসব কাজ এত বিপজ্জনক, সেই চমকে দেওয়া তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে এখানে। শেষ পর্যন্ত পড়লে হয়তো আপনার নিজের পেশাকেও নতুন চোখে দেখতে শুরু করবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা জিনিস মনে পড়ে-আমরা যারা অফিসে বসে কম্পিউটার টিপি, তাদের জীবনটা আসলে কতটা সহজ। কিন্তু এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে গিয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে হয়। আমি এখানে কয়েকটা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশার কথা একটা একটা করে বলছি। প্রত্যেকটার পেছনে কেন এত ভয় আর বিপদ, সেটা সংক্ষেপে কিন্তু বিস্তারিতভাবে লিখলাম। তথ্যগুলো সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে নেয়া, যাতে বাস্তবতা বোঝা যায়।

প্রথমে আসে লগিং ওয়ার্কার বা বন থেকে গাছ কাটার শ্রমিকদের কথা। এরা দিনের পর দিন ঘন জঙ্গলে গিয়ে বিশাল বিশাল গাছ কাটে, যেগুলো পড়ার সময় একটা ভুল হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। যন্ত্রপাতির শব্দ, ভারী চেইনসো আর অস্থির মাটি-সব মিলিয়ে প্রতি এক লাখ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয় প্রতি বছর। আমেরিকার শ্রম দপ্তরের তথ্য বলে এটা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজগুলোর মধ্যে এক নম্বর। যারা এটা করে তারা প্রায়ই দূরবর্তী এলাকায় থাকে, কোনো হাসপাতাল কাছে নেই, একটা ছোট দুর্ঘটনাও বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়টা হলো বাণিজ্যিক জেলে, বিশেষ করে আলাস্কার ক্র্যাব ফিশিংয়ের মতো কাজ। সমুদ্রের ঝড়, হিমশীতল পানি আর ভারী জাল-জালিয়া নিয়ে কাজ করতে হয়। একটা ভুল পা পিছলে গেলেই সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা। পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি এক লাখ শ্রমিকে ৮০ থেকে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়, বেশিরভাগই ডুবে বা নৌকা উল্টে। টেলিভিশনে যে 'ডেডলিয়েস্ট ক্যাচ' শো দেখি, সেটা আসলে বাস্তবের চেয়ে অনেক কম ভয়ংকর। এরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ সমুদ্রে থাকে, কোনো সাহায্যের আশা ছাড়াই।

তৃতীয় পেশা হলো ছাদের শ্রমিক বা রুফার। উঁচু উঁচু বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে কাজ করা-বৃষ্টি হোক, রোদ হোক, বাতাস বইুক। পা পিছলে গেলেই নিচে পড়ে মৃত্যু। আমেরিকায় প্রতি এক লাখ শ্রমিকের মধ্যে ৫০ জনেরও বেশি মারা যায় শুধু পড়ে গিয়ে। কোনো সেফটি হার্নেস ভুলভাবে লাগালেই বিপদ। অনেকে বলে এটা নাকি রুটিন কাজ, কিন্তু প্রতিদিনের ঝুঁকি দেখলে গা শিরশির করে।

চতুর্থটা হলো ছোট বিমানের পাইলট বা ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। বড় এয়ারলাইন্সের পাইলটদের চেয়ে এরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে। ক্রপ ডাস্টিং, ফরেস্ট ফায়ার ফাইটিং বা দুর্গম এলাকায় উড়ান-এসব কাজে একটা ইঞ্জিন ফেল করলেই শেষ। ফ্যাটালিটি রেট প্রায় ৫০-৬০ জন প্রতি লাখে। আকাশ থেকে নিচে তাকালে সুন্দর লাগে, কিন্তু একটা ছোট ভুলের দাম জীবন দিয়ে দিতে হয়।

পঞ্চম পেশাটা আবর্জনা সংগ্রাহক বা গারবেজ কালেক্টর। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাকের পেছনে কাজ করা, গাড়ি ছুটছে চারদিকে। অনেক সময় ড্রাইভার দেখতেও পায় না। প্রতি লাখে ৪০ জনের মতো মারা যায় গাড়ি চাপা পড়ে বা যন্ত্রপাতিতে আটকে। শহরের এই অদৃশ্য শ্রমিকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায়, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়।
ষষ্ঠটা খনি শ্রমিক। মাটির নিচে অন্ধকারে কাজ করা, যেখানে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হতে পারে বা ছাদ ধসে পড়তে পারে। বাংলাদেশ বা ভারতের কয়লা খনিতেও এই ঝুঁকি প্রচুর। প্রতি বছর শত শত শ্রমিক মারা যায় ধসে পড়া বা বিষাক্ত গ্যাসে। বাইরের পৃথিবী দেখা যায় না, শুধু ধুলো আর অন্ধকার।

সপ্তম পেশা তেল রিগের কর্মী। সমুদ্রের মাঝে বিশাল প্ল্যাটফর্মে কাজ, যেখানে একটা অগ্নিকাণ্ড বা তেল ছিটকে গেলে পুরো জায়গা ধ্বংস হয়ে যায়। উচ্চতা, ঝড় আর ভারী যন্ত্রপাতি-সব মিলিয়ে খুব উঁচু মৃত্যুর হার। অনেকে মাসের পর মাস পরিবার থেকে দূরে থেকে এই ঝুঁকি নেয় শুধু ভালো টাকার জন্য।

অষ্টমটা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বা ইএক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল এক্সপার্ট। যুদ্ধক্ষেত্র বা সন্ত্রাসী হামলার পর বোমা সরাতে হয়। একটা ভুল তার বা সুইচে পুরো শরীর উড়ে যেতে পারে। এরা ইচ্ছে করে মৃত্যুর মুখে ঝাঁপ দেয় অন্যদের বাঁচাতে। সাহসের চেয়ে এটা পাগলামি বলা যায়।

নবম পেশা যুদ্ধ সাংবাদিক। গুলি, বোমা আর সংঘাতের মাঝে খবর সংগ্রহ করা। অনেকে ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হয় বা সরাসরি মারা যায়। সিরিয়া, ইউক্রেন বা গাজায় যারা কাজ করে, তাদের জীবন প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকিতে। ক্যামেরা হাতে শুধু সত্য তুলে ধরার জন্য এত বিপদ নেয়া সত্যিই অবাক করে।

দশম আর সবচেয়ে ভয়ংকরগুলোর একটা হলো গভীর সমুদ্রের স্যাচুরেশন ডাইভার বা আন্ডারওয়াটার ওয়েল্ডার। হাজার ফুট নিচে চাপের মধ্যে কাজ করা, যেখানে একটা ছোট ফুটো হলেই শরীরের রক্ত ফুটে উঠতে পারে। ডিকম্প্রেশন সিকনেসের ঝুঁকি সারাজীবন থাকে। এরা সমুদ্রের তলায় পাইপ মেরামত করে, কিন্তু প্রতিবার ডুব দেয়ার সময় জানে ফিরে আসার গ্যারান্টি নেই।

এসব পেশা করার পেছনে অনেক সময় ভালো টাকা থাকে, কিন্তু জীবনের দাম কি সেই টাকায় মেলে? আমি নিজে এগুলোর কথা ভাবলেই শিউরে উঠি। যদি তোমার মনে হয় কোনোটা নিয়ে আরও জানতে চাও, বলো-আরও খুঁটিনাটি বলতে পারি।

ঝড়-বৃষ্টি-তুষারের মাঝে সমুদ্রে মাছ ধরাঃ ক্র্যাব ফিশারম্যানদের ভয়ংকর জীবন

আলাস্কার ওই ঠান্ডা, নিষ্ঠুর সমুদ্রে ক্র্যাব ধরার কাজটা দেখলে সত্যি মনে হয় যেন কোনো টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোর দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর লড়াই। চারপাশে ঝড়ের হুঙ্কার, প্রচণ্ড বৃষ্টি আর তুষারের ঝাপটা-এর মধ্যে ছোট্ট একটা মাছ ধরার নৌকায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লুকোচুরি খেলে। বিশাল বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে নৌকা যখন দুলতে থাকে, তখন হাজার হাজার পাউন্ড ওজনের লোহার খাঁচাগুলো টেনে তোলার সময় একটু পা ফসকালেই শেষ। হাত-পা জমে যায় ঠান্ডায়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে তুষারের কারণে, আর একবার যদি সমুদ্রে পড়ে যান, তাহলে আর ফেরার কোনো পথ থাকে না।
বিশ্বের-সবচেয়ে-ভয়ংকর-ও-বিপজ্জনক-কিছু-পেশা
আমি একবার একটা ডকুমেন্টারিতে দেখেছিলাম, কীভাবে এই ফিশারম্যানরা প্রতিদিন নৌকায় উঠে নিজেদের মনে মনে বলেন, "এবারের ট্রিপটাই যেন শেষ না হয়"। এই পেশার ঝুঁকি নিয়ে পরিসংখ্যান শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়-প্রতি লাখে আশি থেকে নব্বইজন মানুষ এভাবে জীবন হারান, যা অন্য অনেক পেশার তুলনায় অনেক বেশি। তবু কেন এই কাজ করেন এরা? টাকার লোভ তো একটা বড় কারণ, কারণ একটা সফল সিজনে অনেক টাকা আয় হয়। 

কিন্তু তার পাশাপাশি আছে এক ধরনের অদ্ভুত আকর্ষণও-সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার যে রোমাঞ্চ, সেটা হয়তো অন্য কোনো চাকরিতে পাওয়া যায় না। তবে যারা এই কাজ করেন, তাদের পরিবারের মানুষেরা প্রতিবার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় শুধু প্রার্থনা করেন যেন ফিরে আসেন। আমার তো মনে হয়, এই ফিশারম্যানরা সত্যিকার অর্থে আধুনিক যুগের যোদ্ধা, যারা প্রকৃতির সবচেয়ে ভয়ংকর রূপের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন বাজি রাখেন।

বিশাল গাছ পড়ার আতঙ্কে লগারদের কাজ

বনের মাঝে গাছ কাটার কাজটা শুনতে যত সহজ আর সাধারণ মনে হয়, বাস্তবে এটা অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা এর মধ্যে লগারদের কাজ অন্যতম। একটা বিশাল গাছ কাটতে গিয়ে এক সেকেন্ডের ছোট্ট হিসাবের ভুল হলেই সেই গাছ ভুল দিকে পড়ে যায় আর সঙ্গে সঙ্গে চাপা পড়ে মৃত্যু অনিবার্য। চেইনসোর তীক্ষ্ণ শব্দ, ভারী মেশিন আর দুর্গম জঙ্গলের ভেতরে কাজ করতে হয় এদের, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্য পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই পেশায় প্রতি লাখে প্রায় একশো জন লগার জীবন হারান। তবু জীবিকার তাগিদে অনেকে প্রতিদিন এই আতঙ্ক নিয়ে বনের ভেতর ঢোকেন, যাদের দেখলে সত্যিই শ্রদ্ধা হয় কিন্তু ভয়ও লাগে।

ছাদ থেকে এক পা ফসকালেই শেষঃ রুফার পেশার ঝুঁকি

ছাদ মেরামতের কাজটা শুনলে অনেকের কাছে খুব সাধারণ আর সহজ মনে হয়। উঁচু ছাদের উপর দাঁড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই পা পিছলে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে থাকেন এই পেশার মানুষেরা। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা এর মধ্যে রুফারদের কাজ অন্যতম, কারণ গরমের দিনে ছাদ গরম হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায় বা বৃষ্টিতে পুরো সারফেস ভিজে একদম স্লিপারি হয়ে যায়। 
একটু অসতর্কতায় পা ফসকালেই শত শত ফুট নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রতি বছর ঘটে, আর বেশিরভাগ সময়ই সেই পতন মারাত্মক আঘাত বা মৃত্যু নিয়ে আসে। তবু জীবিকার জন্য অনেকে প্রতিদিন এই আতঙ্ক নিয়ে উঁচু ছাদে উঠে কাজ করে যান, যা দেখলে সত্যিই শ্রদ্ধা হয় কিন্তু গায়ে কাঁটা দেয়।

গভীর খনির অন্ধকারে বিপদের ফাঁদঃ মাইনারদের গল্প

মাটির অনেক গভীরে, যেখানে সূর্যের আলো কখনো পৌঁছায় না, সেখানে কয়লা বা অন্যান্য খনিজের সন্ধানে কাজ করা খনি শ্রমিকদের জীবনটা সত্যিই এক ভয়ানক বিপদের ফাঁদ। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, হঠাৎ করে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের আশঙ্কা, ছাদ ধসে পড়া, আর অক্সিজেনের অভাব-এসব ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন তারা মাটির নিচে নেমে যান। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মাইনার এভাবে জীবন হারান, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে সেফটি ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।
বিশ্বের-সবচেয়ে-ভয়ংকর-ও-বিপজ্জনক-কিছু-পেশা
আমি যখন খনি দুর্ঘটনার গল্পগুলো পড়ি, তখন গায়ে কাঁটা দেয়-কয়েকশো মানুষ একসঙ্গে মাটির নিচে আটকে পড়ে, বাইরের পৃথিবী অপেক্ষা করে আর ভেতরে তারা শুধু অন্ধকারে বসে প্রার্থনা করে। শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি এই কাজ মানুষের মনের উপরও ভয়ংকর চাপ ফেলে, কারণ প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারকে বিদায় জানানোর সময় মনে হয় এটাই হয়তো শেষ দেখা।

তেলের খোঁজে সমুদ্রের উপর ঝুঁকিপূর্ণ জীবনঃ অয়েল রিগ ওয়ার্কার

সমুদ্রের মাঝখানে বিশাল তেলের রিগের উপর কাজ করার জীবনটা সত্যিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। চারদিকে শুধু অসীম পানি, মাসের পর মাস পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে এখানে কাজ করতে হয় এই ওয়ার্কারদের। যেকোনো সময় গ্যাস লিক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, আগুন লেগে যেতে পারে, প্রচণ্ড ঝড়-তুফানে পুরো প্ল্যাটফর্ম ঝাঁকুনি খেতে পারে, আর একটু অসতর্ক হলেই উঁচু থেকে পড়ে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ভয় লেগেই থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্য আসতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তবুও উচ্চ বেতনের আকর্ষণে অনেকে এই পেশা বেছে নেন। কিন্তু প্রতিদিনের এই আতঙ্ক আর মানসিক চাপ যে কতটা ভয়ংকর, তা শুধু যারা এই রিগে কাজ করেন তারাই জানেন।

আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াইঃ ফায়ারফাইটারদের সাহসিকতা

আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ারফাইটাররা প্রতিদিন নিজের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে লড়াই করেন।প্রচণ্ড উত্তাপ, ঘন ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে দিয়ে ভবনের ভেতর ঢুকতে হয় তাদের। কখনো পুরো ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায়ও পিছপা হন না এই সাহসী মানুষেরা। 
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা এর মধ্যে ফায়ারফাইটারদের কাজ একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রতি বছর অনেকেই আগুনে পুড়ে বা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে জীবন হারান, তবুও তারা সমাজের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে যান। এই পেশার মানুষদের সাহস দেখলে সত্যিই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়।

বোমা-মাইন নিষ্ক্রিয় করার সাহসী পেশাঃ ইওডি টেকনিশিয়ান

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা এর মধ্যে বোমা-মাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ অন্যতম। এই ইওডি টেকনিশিয়ানরা ভারী সুরক্ষা স্যুট পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা বা সন্ত্রাসী হামলার পরের জায়গায় গিয়ে অবিস্ফোরিত বোমা, ল্যান্ডমাইন এবং আইইডি নিষ্ক্রিয় করেন। একটি ছোট্ট ভুলের কারণে পুরো শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সবসময় লেগেই থাকে। এই কাজের মানসিক চাপ এতটাই প্রচণ্ড যে, প্রতিবার মাঠে নামার আগে তারা জানেন না আজ ফিরতে পারবেন কিনা। তবুও এই সাহসী মানুষেরা অন্যদের নিরাপত্তার জন্য নীরবে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যান।

উঁচু ভবনের জানালা পরিষ্কার করতে ঝুলে থাকাঃ হাই-রাইজ ক্লিনার

একশো তলা বা তারও বেশি উঁচু ভবনের বাইরের দিকে দড়িতে ঝুলে জানালা পরিষ্কার করার কাজটা শুনলেই মাথা ঘুরে যায়। নিচের রাস্তা যেন অনেক দূরের একটা সরু ফিতের মতো দেখায়, আর হঠাৎ জোরালো বাতাসের ঝাপটা এলে পুরো শরীর দুলে ওঠে। কোনো সেফটি নেট বা বড় বেষ্টনী নেই, শুধু একটা পাতলা দড়ি আর হার্নেসের উপর ভরসা করে কাজ করতে হয় এই হাই-রাইজ ক্লিনারদের।
বিশ্বের-সবচেয়ে-ভয়ংকর-ও-বিপজ্জনক-কিছু-পেশা
দুবাই বা নিউইয়র্কের মতো শহরে এরা প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে উঠে পড়ে, একটু হাত ফসকালেই বা পা পিছলে গেলেই সোজা নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়। উচ্চতার এই আতঙ্ক, প্রচণ্ড বাতাস আর অসম্ভব শারীরিক চাপ সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তারা এই কাজ করে যান। আমার তো এই কাজের কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

এইসব ভয়ংকর আর বিপজ্জনক পেশার গল্প লিখতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, আমরা যারা ঘরে বসে নিরাপদে কাজ করি, তাদের জীবন আসলে কতটা সহজ আর সাধারণ। যারা প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লুকোচুরি খেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে দেন, তাদের সাহস আর ত্যাগের কাছে মাথা নত হয়ে যায়। সমুদ্রে, খনিতে, আগুনের মাঝে কিংবা উঁচু ভবনে ঝুলে-এরা যে ঝুঁকি নেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
তবু প্রশ্ন জাগে, কেন এত বড় ঝুঁকি নেন তারা? শুধু টাকার জন্য, নাকি সাহসের টানে, নাকি জীবিকার কোনো বিকল্প নেই বলে? আপনার কী মনে হয়? কোন পেশাটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে বা ভয় দেখিয়েছে তা কমেন্ট করে জানাবেন। আর যারা এইসব বিপজ্জনক কাজ করেন, তাদের জন্য রইল আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা আর শুভকামনা। সাবধানে থাকুন, জীবন তো একটাই। অর্ডিনারি আইটির সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url