কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়-জেনে নিন সমাধান
কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায় খুঁজছেন কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না কি করবেন ? ওষুধের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ও ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে আমরা কিভাবে সহজেই শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে পারি তার উপায় জানব আমার এই আর্টিকেল।
আমাদের রান্না ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু জাদুকরী প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করে। রক্তনালীতে জমে থাকা খারাপ চর্বি দূর করে কীভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন এবং ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা জানতে হলে আমার লেখা এই আর্টিকেল অনুসরণ করুন।
পেইজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃকোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়
- কোলেস্টেরল কী ? রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ কি কি
- কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন
- জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করে কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়
- প্রতিদিনের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এর মাধ্যমে কোলেস্টেরল কমানোর উপায়
- কোলেস্টেরল কমানোর জন্য কিছু কার্যকরী ডায়েট টিপস
- কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত এবং কি কি পরীক্ষা করা উচিত
- নিজস্ব মতামত
কোলেস্টেরল কী ? রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ কি কি
কোলেস্টেরল হলো এক ধরণের চর্বি বা মোমের মতো আঠালো পদার্থ, যা আমাদের রক্তে ভেসে বেড়ায়।আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় কোষগুলো সঠিকভাবে তৈরি করতে, কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন বানাতে এবং খাবার যাতে তাড়াতাড়ি হজম হয় সেই ক্ষেত্রে ও কোলেস্টেরল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোলেস্টেরল (প্রায় ৮০%) তৈরি হয় আমাদের লিভার বা যকৃতে, আর বাকিটা আসে আমাদের দৈনন্দিন খাবার (যেমন: ডিম, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার) থেকে। কোলেস্টেরল রোগ হলো একটি নিরব ঘাতক রোগ।
রক্তে কোলেস্টেরল বেড়েছে কিনা সাধারণত বাইরে থেকে হঠাৎ করে কোনো লক্ষণ শরীরে দেখা যায় না, এটা শরীরকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়,তাই একে নীরব ঘাতক রোগ বলে। তবে শরীর ভেতর থেকে কিছু সংকেত দেয়, যেমন—অল্পতেই বুক ধড়ফড় করা, ঘন ঘন হাত-পা অবশ হওয়া বা অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা। আপনার হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে এই ছোট ছোট লক্ষণগুলো অবহেলা না করে আজই সতর্ক হন
কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন
ওটস কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।কোলেস্টেরল কমানোর জন্য সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে এক বাটি ভাত বা রুটি না খেয়ে এক বাটি ওটস খাওয়ার অভ্যাস করেন।কারন এতে থাকা ফাইবার যা আপনার শরীরের ভেতরের চর্বি শুষে নিয়ে শরীরকে চর্বি মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।- রান্নায় ব্যবহার করা রসুন আমরা সবাই চিনি,এই রসুনেরও অনেক উপকার রয়েছে আপনি যদি নিয়মিত সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খান তাহলে আপনি অনেক রোগ থেকে মুক্তি এছাড়াও রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল রসুন খেলে কমে যায় কারণ রসুন শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল ও চর্বি জমতে দেয় না.
- রান্নায় সয়াবিন তেল যাতে কম ব্যবহার করা হয় সেদিকে রাখতে হবে।কারণ রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত খাওয়ার ফলে খারাপ কোলেস্টেরল পরিমাণ বেড়ে যায় তাই যত পারবেন পরিমান মত খাবার চেষ্টা করতে হবে
- শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো রাখতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টক জাতীয় কিছু যেমন লেবু,আমলকি,কমলা,মাল্টা রাখবেন।কারণ টক জাতীয় ফলে রয়েছে ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা মানুষের শরীর থেকে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এছাড়াও চর্বিযুক্ত লাল মাংস (গরু বা খাসি) এবং বাইরের ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়াই ভালো
- এক চামচ মেথি দানা রাতে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ছেঁকে খেলে রক্তে জমে থাকা খারাপ চর্বি দ্রুত গলে যায়। শরীরকে একটু স্বাভাবিক কর্ম ক্ষমতা সম্পন্ন রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট একটু জোরে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। এই সহজ ঘরোয়া নিয়মগুলো মেনে চললে কোনো ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল কমিয়ে জীবনকে স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখা সম্ভব
- দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় ভাতের পরিমাণ কমিয়ে বেশি করে সবুজ শাকসবজি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস করুন, কারণ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ।ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে অতএব যে খাবারগুলো ফ্যাটিএসিড সমৃদ্ধ সেই খাবারগুলো দুপুরের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এছাড়াও প্রতিদিন খাবারের তালিকায় সামুদ্রিক ও নদীর মাছ খাবেন কারণ নদীর মাছ চর্বি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- টক দইয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিকস চা রক্তনালীতে চর্বি জমতে বাধাগ্রস্ত করে এবং কোলেস্টেরল জমতে দেয় না। বিশেষ করে দুপুরে খাওয়ার পর কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার না খেয়ে এক কাপ টক দই খাবেন এতে শরীরে খারাপ চর্বি জমবে না এবং খারাপ কোলেস্টরল দূর হবে। এটি একদিকে যেমন দুপুরের ভারী খাবার সহজে হজম করাবে, অন্যদিকে রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেবে ন
- বিকেলে দুধ-চিনির চায়ের বদলে এক কাপ কুসুম গরম গ্রিন টি পান করার অভ্যাস আপনার শরীরে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করবে। এর রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে জীবনযাত্রার মানকে সহজ ও স্বাভাবিক করে। আর চায়ের সাথে স্ন্যাক্স হিসেবে বিস্কুট বা চানাচুর না খেয়ে ৪-৫টি কাঠবাদাম বা আখরোট চিবিয়ে খেলে শরীরের ভালো কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ে।
জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করে কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়
জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করে গরু উপায়ে ঘরোয়া উপায়ে শরীর থেকে খারাপ
কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব জীবনযাত্রা মানে কি ধরনের পরিবর্তন করলে আমাদের
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল জমবে না এবং খারাপ চর্বি জমবে না চলুন তা জেনে নিন এবং
জানার পর তা পালন করি।
অলসভাবে জীবন যাপন না করা
আমাদের কিছু খারাপ অভ্যাস আমাদের শরীরে খারাপ করে মূল কারণ আমরা অনেকটাই আরাম প্রিয় মানুষ পরিশ্রম মোটেই আমাদের পছন্দের বিষয় না কিন্তু আমরা এটা বুঝি না পরিশ্রমের পরেও আমাদের শরীর ভালো থাকার থাকে এটাও প্রতিদিন নিয়মিত একটা ব্যায়াম। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সারাদিন চেয়ার-টেবিলে বসে বা শুয়ে-বসে থাকার অভ্যাস রয়েছে যা রক্তে খারাপ চর্বি জমার প্রধান কারণ।
আরো পড়ুন:ছাদের টবে ড্রাগন ফল চাষের সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন
এই অলসতা কাটিয়ে প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করুন। শরীরকে একটু সচল রাখলেই দেখবেন রক্তের ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে আর খারাপ কোলেস্টেরল নিজে থেকেই কমতে শুরু করে।
রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুমানো অভ্যাস করা
আমরা অনেকেই রাতের খাবার দেরিতে খাই কিন্তু আমরা জানি না রাতের খাবার দেরিতে খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হয়। প্রতিটা মানুষের উঠে রাতের খাবার রাত আটটা থেকে নয়টার ভিতর খাওয়া এবং খাওয়ার পরপরই বিছানায় না গিয়ে ঘরের ভেতর একটু হাটাহাটি বা একটু ঘরোয়া ব্যায়াম করা উচিত। অনেকেই রাত দেখে মোবাইল দেখার অভ্যাস রয়েছে কিন্তু আপনারা কি জানেন রাত জেগে সিনেমা দেখা বা মোবাইল চালানোর অভ্যাস লিভারের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন, এতে শরীরের মেটাবলিজম ঠিক থাকে এবং চর্বি সহজে জমতে পারে না।
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মুক্ত থাকুন
শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য সব সময় নিজেকে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মুক্ত রাখতে হবে। সংসার, পড়াশোনা বা অফিসের কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিন্তু আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যখন আমরা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করি, তখন শরীর থেকে 'কর্টিসল' নামের হরমোন নিঃসৃত হয় যা রক্তনালীতে চর্বি জমতে সাহায্য করে। তাই মনকে শান্ত রাখতে প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজ করুন, পরিবারের সাথে আড্ডা দিন কিংবা হয়তো পছন্দমত কোথাও ঘুরতে যান বা একটু গান শুনুন ব্যায়াম করুন এতে মানসিক চাপ।
ধূমপান ও তামাকজাতীয় অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে
ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল পরিমাণ বেড়ে যায় এজন্য যারা নিয়মিত ধূমপান এর সাথে যুক্ত তারা মনে রাখবেন নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছেন।যারা নিয়মিত ধূমপান করেন করেন তাদের রক্তনালী ভেতরে অংশ আস্তে আস্তে খারাপ হতে থাকে এবং সেখানে খুব সহজেই চর্বি আটকে যায়। ধূমপান বর্জন করলে শরীরের ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় যা রক্তনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাই হার্টকে আজীবন সচল রাখতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আজই যেকোনো ধরণের ধূমপানের অভ্যাসকে চিরতরে 'না' বলুন।
প্রতিদিনের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এর মাধ্যমে কোলেস্টেরল কমানোর উপায়
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস কিছু ছোট ও সহজ পরিবর্তন এনে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওটস, লাল চালের ভাত, ডাল এবং তাজা শাকসবজি ও ফলমূলের মতো আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করুন। এই আঁশ বা ফাইবার শরীরে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমিয়ে রক্ত পরিষ্কার রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
খাবার রান্নার ক্ষেত্রে সয়াবিন বা পরিবর্তে অলিভ অয়েল, রাইস ব্র্যান অয়েল বা সরিষার তেলের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাশাপাশি ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস) এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে দিতে হবে। এর বদলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, কাঠবাদাম নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দারুন কাজ করে।
আরো পড়ুন:মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করার বাস্তব উপায়-ঘরে বসেই শুরু করুন আজই
রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করে আপনার রোজকার খাবার দাবার। কোনো কঠোর ডায়েট না করে শুধু কিছু খাবার বাদ দিয়ে আর কিছু খাবার যোগ করেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কোলেস্টেরল কমানোর জন্য কিছু কার্যকরী ডায়েট টিপস
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফাইবার ও আঁশ যুক্ত খাবার রাখুন
প্রতিদিনের খাবার খাদ্য তালিকায় এমন খাবার যোগ করতে হবে যে খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার ও আর আশ রয়েছে কারণ খাবারে থাকা দ্রবণীয় আশ বা ফাইবার থাকলে যা পরিপাকতন্ত্র থেকে কোলেস্টেরলকে রক্তে মিশতে বাধা দেয়।প্রতিদিন আমরা যে সাদা ভাত খাই তার পরিবর্তে আমাদের লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, ডাল, ছোলা, আপেল এবং পেয়ারা রাখা উচিত।
স্বাস্থ্যকর ও ফ্যাট জাতীয় খাবার
সব ফ্যাট শরীরের জন্য খারাপ নয় তাই যে খাবারগুলো খেলে ভালো ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করে সেগুলো গ্রহণ করে বাকিটা ত্যাগ করতে হবে। রান্নায় অতিরিক্ত সয়াবিন তেলের ব্যবহার কম সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।। সকালে বা বিকেলে নাস্তা হিসেবে চিপস বা বিস্কুটের বদলে একমুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চিনা বাদাম খান এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খান
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। তাই সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন সামুদ্রিক মাছ (যেমন: রূপচাঁদা, ইলিশ, ছোট মাছ ) অথবা আমাদের দেশি পাঙ্গাস, মৃগেল বা রুই মাছের তেল বা চর্বিহীন অংশ খেতে পারেন। এছাড়াও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়ার জন্য খাবারে তিসির বীজ বা চিয়া সিড যুক্ত করা যেতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
আপনি যদি কোলেস্টেরল দ্রুত কমাতে চান তাহলে আপনাকে কিছু খাবার কম খেতে হবে অর্থাৎ ওই খাবারগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না তাহলে চলুন জেনে নেই কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য।
-
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত লাল মাংস যেমন গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত মাংস এবং কলিজা।
-
প্রক্রিয়াজাত কিছু খাবার যেমন বেকারি পণ্য (বিস্কুট, কেক), ফাস্টফুড (বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই) এবং ডালডা দিয়ে ভাজা খাবার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে যত পারবেন কোলেস্টেরল কমানোর জন্য এই খাবারগুলোকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন নিজের খাদ্য তালিকা থেকে।
- দুগ্ধজাত খাবার ঘন দুধ, মাখন, চিজ বা ঘি অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ করতে হবে
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত এবং কি কি পরীক্ষা করা উচিত
কোলেস্টেরল একটা নীরব ঘাতক উপদান। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে যদি আপনার শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে হঠাৎ করে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা দেয়, যেমন—হঠাৎ অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, অল্পতেই প্রচণ্ড হাঁপিয়ে ওঠা,তবে অবহেলা না করে আমাদের দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। এ ছাড়া বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরানো, বা রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার মতো সমস্যাগুলো নিয়মিত দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার আপনার কথা শুনে কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানার জন্য কিছু পরীক্ষা দিবে। অর্থাৎ কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিখুঁতভাবে জানার জন্য প্রধান পরীক্ষা হল লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে দেখতে হবে কোলেস্টেরল এর উপাদান কেমন আছে শরীরে।এর মধ্যে শরীরে রক্তশূন্যতা বা ইনফেকশন আছে কিনা তা জানতে সিবিসি , ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য ফাস্টিং ব্লাড সুগার এবং হার্টের অবস্থা বুঝতে ইসিজি পরীক্ষাগুলো করতে হবে। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য যথাক্রমে এলএফটি এবং সেরাম ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করতে দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন:বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক কিছু পেশা সম্পর্কে জানার উপায়



মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url