সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার ৭ টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

 সকালে খালি পেটে চিয়া সিট খাওয়ার  অবিশ্বাস্য ৭টি উপকারিতা ছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে আজ আমার এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব চিয়াসিডের উপকারিতা ও গুণাবলী সম্পর্কে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে চিয়া সিড সুপারফুড নামে পরিচিত।কালো সাদা সংমিশ্রণে এই ছোট ছোট দানাই চিয়া সিট নামে পরিচিত।

সকালে-খালি-পেটে চিয়া-সিড-খাওয়ার-৭-টি-অবিশ্বাস্য-উপকারিতা

প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষ চিয়া সিড যে কি খাবার এটা অনেকেই চিনেনা এবং জানে না।ছোট ছোট এই দানা যে এত পাওয়ার বা শক্তি এটা কেউ জানে না।প্রতিদিন নিয়মিত খালি পেটে চিয়া সিট খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ অনেকেই আজকাল চিয়া সিডে র উপর নির্ভরশীল।নিয়মিত সঠিক নিয়ম মেনে  খেলে  খুব সহজেই ভালো ফলাফল আশা করা যায়। আজ আমার এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব চিয়া সিড কি, খেলে কি  হয়, কোন ৭টি উপকার পাওয়া যায় এবংচিয়া সিড খাওয়ার সঠিক নিয়ম কি।এগুলো বিষয়ে জানতে এবং এর উপকারিতা বুঝতে চোখ রাখুন আমার নিচে লেখা গুলোতে।

পেইজ কনটেন্ট সূচিপত্রঃসকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার ৭ টি অবিশাস্য উপকারিতা

চিয়াসিট কি ? খালি পেটে  চিয়া সিড খেলে কোন ৭ টি উপকার পাওয়া যায়

সাদা ও কালো সংমিশ্রণে দেখতে ছোট ছোট এই বীজকে চিঁয়া সিড বলা হয়।স্বাস্থ্য কর দিক থেকে চিয়াসিডকে সুপার ফুট বলা হয়ে থাকে।চিয়া সিড মূলত একটি গাছের বীজ যা মরুভূমিতেই বেশি জন্মায়। আমেরিকা ও মেক্সিকোতে চিয়া নামের এক ধরনের গাছ হয় ওই গাছ থেকেই মূলত চিয়া  বীজ উৎপন্ন হয়।আর এই গাছের বীজকে কেই চিয়া সিড বলা হয়।
পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিট একটি সুপার ফুড খাবার। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে চিয়া সিড এ ।খালি পেটে চিয়া সিড খেলে শরীরের নানা রকম উপকার পাওয়া যায়। আমাদের দেশে অনেকেই সকালে খালি পেটে  চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে বিভিন্ন রোগ জীবাণুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য।তাহলে চলুন জেনে নেই সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কোন ৭টি উপকার পাওয়া যায়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

চিয়া সিড খুব দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।চিয়া সিডে আছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার।আর ফাইবারের কাজ সম্পর্কে আপনারা কি জানেন,ফাইবারের শরীরে ডুকে কি কাজ করে জানলে অবাক হবেন। ফাইবার পানি শোষণ করে পেটের ভিতর ফুলে উঠে এর ফলে দীর্ঘ সময় আমাদের ক্ষুধা লাগে না এবং বেশি খাওয়ার ইচ্ছা ও আর থাকে না। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে আমাদের ওজন অনেক অংশে কমে যায় এজন্য বলা হয়  চিয়া সিড ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নামক জীবাণু তৈরি হয়।আর চিয়া সিড তার ধ্বংস করার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করে।কারণ চিয়া সিড এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণেএন্টিঅক্সিডেন্ট।এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে ধ্বংসকারী হিসেবে কাজ করে।
ফলে ত্বক থেকে বয়সের ছাপ এবং বলি রেখা দূর হয় যা ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়।
 চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় প্রতিদিন নিয়ম মেনে চিয়া সিড খেলে ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা দ্বিগুণ বাড়বে । 
ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য আমাদের নিয়মিত চিয়া সিড খাওয়া উচিত এতে একদিকে যেমন শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে অন্যদিকে ত্বক ও চুল ভালো থাকবে।

ব্লাড সুগার বা রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই ব্লাড সুগার অর্থাৎ ডায়াবেটিসের আক্রান্ত। খাদ্য অভ্যাসের উপর ব্লাড সুগার অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।এক্ষেত্রে চিয়া সিড খেলে শরীরে কার্যক্ষমতা বাড়ে খাবার খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ করে শর্করা মাত্রা বাড়তে পারে না ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্তন থাকে।তাই যারা ডায়বেটিস এ আক্রান্ত তারা শুধু  ওষুধের  উপর পরে না থেকে চিয়া সিড নিয়মিত খেতে পারেন।চিয়া সিড আপনার ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণ রেখে ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে

চিয়া সিড হৃদরোগের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে কারন চিয়া সিডে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। ফ্যাটি এসিড মানুষের রক্তের খারাপ কোলেস্টরেল কে ধ্বংস করে দেয় এবং শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
এর ফলে ভালো কোলেস্টরল শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে এভাবেই চিয়া সিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অতএব নিজের হাটকে সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগ থেকে বাঁচতে নিয়ম মত চিয়া সিড খান আর  শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমান এবং হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে  নিজেকে মুক্ত থাকুন।

হাড় ও দাঁত মজবুত করে চিয়াসিড

চিয়াসিড হাড় ও দাঁতকে ভালো রাখতে কার্যকর ভুমিকা পা্লন করে। চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম,ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজ উপাদান গুলো হাড় ও দাঁতকে ভালো রাখতে কার্যকর  ভূমিকা পালন করে।
আমাদের মধ্যে অনেকেই এই খনিজ উপাদান গুলোর পুস্টি হীনতায় ভোগে।একটি খাবারে যেহেতু তিনটি উপাদান পাওয়া যায় তাহলে চিয়া সিড খাওয়া যে কত উপকারী তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
 তাই আমাদের উচিত নিয়মিত চিয়া সিড খেয়ে শরীরকে সুস্ত রাখার পাশাপাশি হাড় ও দাঁতকে মজবুত ও সন্দর রাখা। যারা দুধ খেতে পছন্দ করেন না তারা নিয়মিত চিয়া সিড খেতে পারেন কারণ চিয়া সিড থেকে আপনি ক্যালসিয়াম পেতে পারেন দুধের বিকল্প হিসাবে।

হজম শক্তি উন্নত করে

আপনি যদি প্রতিদিন এক চামচ চিয়া সিড খান তাহলে আপনি যে পরিমাণ ফাইবার পাবেন ওই ফাইবার আপনার শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে এবং আপনার হজম ক্রিয়াকে উন্নত করে কোন খাবার যাতে সহজে হজম হয় তা নিশ্চিত করবে।

চিয়া সিড শরীর থেকে টক্সিন অর্থাৎ বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়

চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার  থাকে বলে চিয়া সিড খেলে শরীরে ডুকে শরীর  থেকে বিষাক্ত পদার্থ অর্থাৎ টক্সিন বের করে দেয় এবং ফলে আমাদের শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম কি জেনে রাখুন

চিয়া  সিড বড় ছোট সবাই খেতে পারে তবে চিয়া সিড খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই চিয়া বিজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম কোনটি এবং কিভাবে খেলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি পাবে এবং কতটুকু কি পরিমান খেতে হবে।

 বড়দের জন্য এক থেকে দেড় চামচ এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে ২০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে তারপর খেতে হবে।তবে মনে রাখবেন চিয়া বিজ কখনোই শুকনা বা কাঁচা চিবিয়ে খাবেন না বা খাওয়া উচিত না কারণ  ওজনের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি পানি শোষণ করতে পারে তাই শুকনা খেলে এটি গলায় বা পরিপাক তন্ত্রে গিয়ে তরল চুষে নিয়ে জটিলতা সমস্যা তৈরি করপারে।

ছোটদের যদি খাওয়ান তাহলে মনে রাখবেন বড়দের মতো সমপরিমাণ চিয়া বিজ কখনোই খাওয়াবেন না ছোটদের জন্য মূলত এক টেবিল চামচ পানিতে মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে তারপর  খাওয়াতে হবে।
 আপনি চাইলে এক গ্লাস পানিতে চিয়া বিজ ও মধু এবং লেবুর সাথে মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিয়ে তারপরে খেতে পারেন।তবে মধুর পরিমাণ যাতে খুব বেশি না হয়।টক দই বা মিষ্টি যে কোন কিছুর সাথে এক টেবিল চামচ চিয়া বিজ ভিজিয়ে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিতে হবে এবং এর সাথে কিছু ফল যেমন আপেল ,ডালি্ম ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে চিয়া সিডের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখা রান্না করা খাবার যেমন ডাল বা সালাতের উপর টক দই বা মিষ্টি যে কোন কিছুর সাথে এক টেবিল চামচ চিয়া বিজ ভিজিয়ে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিতে হবে এবং এর সাথে কিছু ফল যেমন আপেল ,ডালি্ম ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে চিয়া সিডের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।আবার চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখা রান্না করা খাবার যেমন ডাল বা সালাতের উপর মিশিয়ে খেতে পারেন। বাদাম খেজুর এবং চিয়া বিজ একসাথে মিশিয়ে লাড্ডু তৈরি করুন এবং এটি স্ন্যাকস হিসাবে ও খেতে পারেন।

চিয়া বীজের পুষ্টির গুণগত মান কেমন জেনে নিন

পুষ্টিগুনে ভরপুর এইজন্য চিয়া সিডকে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে।প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান এর মধ্যে লুকিয়ে আছে।ছোট ছোট দানা এই বীজটা যে এত পুষ্টিগুনে ভরপুর তা আমাদের অনেকেরই অজানা।তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই চিয়া বীজের পুষ্টির গুণগত মান কেমন।
বাংলাদেশের অনেকেই হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন আর চিয়া সিডে ওমেগা ৩ আছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে মানুষকে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আমাদের শরীর প্রায় সময় বিভিন্ন কারণে দুর্বল লাগে আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক থেকে দেড় টেবিল চামচ চিয়া সিড খান তাহলে আপনার শরীর  শক্তি ও কর্ম ক্ষমতা বাড়বে।
চিয়া বীজে আছে প্রচুর পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার ৭ টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

প্রচুর পরিমাণ ফাইবার আছে আর ফাইবার আমাদের শরীরের মেটাবলিজমকে উন্নত করে দীর্ঘ সময় আমাদের পেট ভরিয়ে রাখে এবং খুদা অনুভব করতে দেয় না ফলে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা যায় এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আমাদের খুব সহজে শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ চর্বি কমিয়ে খুব সহজেই ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ব্লাড সুগার অর্থাৎ রক্তের চিনি স্বাভাবিক রাখে যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
 চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম। যারা দুধ খান না তারা দুধের বিকল্পসেবে ক্যালসিয়াম পাওয়ার জন্য চিয়া বিজ খেতে পারেন

 বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা দূর করে। হিসেবে ক্যালসিয়াম পাওয়ার জন্য চিয়া বিজ খেতে পারেন।
একটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অর্থাৎ টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড পেটের প্রধান জনিত বা গ্যাসের সমস্যা দূর করে হজম শক্তিকে উন্নত করে।

চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা জেনে রাখুন

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতার পাশাপাশি এর অনেক ক্ষতিকারক দিক রয়েছে । প্রতিটা খাবারের খাওয়ার সঠিক নিয়ম রয়েছে আপনি যদি সঠিক নিয়ম মেনে না খান তাহলে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে। তাহলে চলুন জেনে নিন চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে

চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে। অতিরিক্ত ফাইবার থাকার কারণে চিয়া সিড বেশি খেলে গ্যাস, পেট ব্যথা, ডায়রিয়াজনিত সমস্যা হতে পারে তাই কোন কিছুই প্রয়োজনের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

চিয়া সিড কখনো শুকনা খাবেন না।শুকনা খেলে গলায় বেঁধে যেতে পারে এবং যদি চিয়া সিড আপনি শুকনা খেতে চান এবং মুখে চিবিয়ে পানি খান তাহলে গলায় আটকে যাবে এজন্য চিয়া সিড যখন খাবেন তখন অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে রেখে ৩০ মিনিট পরে খাওয়ার সবচেয়ে উত্তম।

যাদের এলার্জি চুলকানি, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা আছে তারা চিয়া সিড অধিক পরিমাণে খাবেন না এতে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে,

চিয়া সিড শরীরের  রক্ত পাতলা  করে আর  বেশি পরিমাণে খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায় তাই  সুস্থ রাখতে কখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবেন না।
যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত তারা চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খাবেন না এতে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হবে।

চিয়া সিডকে সুপারফোট বলা হয় কেন

চিয়া সিডে প্রচুর পরিমানে পুস্টি উপাদান রয়েছে ,ভিবিন্ন পুস্টি গুনে ভরপুর এই চিয়া সিড ।চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমানে খনিজ,পটাসিয়াম,ক্যালসিয়াম,ফাইবার,শর্করা এবং ভিবিন্ন ধরনের পুস্টি উপাদান। সঠিক নিয়ম মেনে চিয়া সিড খেলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া জায়।চিয়া সিড মুলত ছোট ছোট সাদা কালো মিশ্রণে দানা।পানিতে ভিজিয়ে রেখে ৩০ মিনিট পরে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।চিয়া সিড ভিবিন্ন পুস্টি গুনে ভরপুর বলে আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ চিয়া সিডকে সুপার ফুট বলে থাকে।

চিয়া সিড খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি

চিয়া সিড  খাবার নির্দিষ্ট কোন সময় নাই।আপনি কোন উদ্দেশ্যে এবং কি কারনে চিয়া সীড খাবেন মূলত আপনার উদ্দেশ্যের উপরে নির্ভর করে চিয়া সিড  খাওয়ার সময় এবং কিভাবে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। চিয়াসিড পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এটি আপনি দিনের যেকোনো সময়ই খেতে পারেন, তবে আপনার শারীরিক লক্ষ্য বা প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এর কিছু উপযুক্ত সময় রয়েছে।

নিচে চিয়াসিড খাওয়ার সেরা সময়গুলো তুলে ধরা হল

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর জন্য সকালে খালি পেটে চিয়াসিড খাওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
  •  এনার্জি বা কর্মক্ষমতা বাড়াতে (সকালের নাস্তায়
  • সারাদিন শরীর চনমনে ও শক্তিতে ভরপুর রাখতে সকালের নাস্তার সাথে এটি খেতে পারেন হজমশক্তি বাড়াতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে (রাতে ঘুমানোর আগে)

  • যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে বা হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে চান, তাঁদের জন্য রাতে ঘুমানোর আগে চিয়াসিড খাওয়া বেশ উপকারী।

  • শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে চিয়াসিড দারুণ কাজে দেয়।

  • ব্যায়ামের আগে বা পরে 

মহিলা ও পুরুষের চিয়া সিডের খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিন

পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমানে  ম্যাগনেসিয়াম,ক্যালসিয়াম প্রোটিন ওমেগা ৩ এন্টিঅক্সিডেন্ট,শর্করা এবং ফাইবার।প্রতিটা পুস্টি উপাদান ই মহিলা ও পুরুষদের শারিরিক ভাবে ভালো থাকার জন্য অনেক উপকারি।
নারীদের জন্য চিয়া সিড
 আজকাল বেশির ভাগ নারীরা হরমোন জনিত সমস্যায় ভুগে।চিয়া সিড খেলে হরমুনের ভারসাম্য বজায় থাকে।তাই সারা দিনের ক্লান্তি শেষে চিয়া সিড খেলে হরমুনের ভারসাম্য ঠিক  থাকে।নারিদের মাসে মাসে যে মাসিক হয় ,এতে প্রায় সময় শরীর দুর্বল লাগে দুর্বলতা কমাতে  বা গর্ভবতী হওয়ার সময় অনেক চুল পড়ে এবং ত্বক নষ্ট হয়ে যায় চিয়া সিড চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।গর্ভবতী অবস্থায় চিয়া সিড হতে পারে আপনার পুস্টি উপাদান সমৃদ্ধ একটি খাবার। তাহলে পুষ্টি উপাদান হতে পারে আপনার উত্তম একটি খাবার অনেক সময় নারীরা পরিশ্রম করার পর হাড় বা কোমরে ব্যথা করে।চিয়া সিডে  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আয়রন যা হারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। 
পুরুষদের চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
 নারীদের তুলনায় পুরুষরা বাইরে পরিশ্রম করে বেশি তাই  পুরুষদের শক্তি বজায় রাখা দরকার প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর জাতীয় খাবার যা-পুরুষদের শরীরের বাড়াতে সাহায্য করে চিয়াসিডে  ওমেগা থ্রি থাকার কারণে পুরুষদের হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে ও পেশি গঠনে সহায়তা করে , হজম শক্তি ভালো করতে সাহায্য করে। 

গর্ভবতী অবস্থায় চিয়া সিডের অজস্র উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

গর্ভবতী অবস্থায় চিয়া সিড খাওয়া মা এবং গর্ভে থাকা শিশুর জন্য কত টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা বলে বুঝানো যাবে না। সুপারফুড হিসেবে পরিচিত এই ছোট বীজটি পুষ্টির একটি পাওয়ারহাউস বলে পরিচিত।

গর্ভকালীন সময়ে একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য চিয়া সিডের প্রধান উপকারিতা গুলো নিচে তুলে করা হলো:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে

গর্ভবতী অবস্থায় একজন মায়ের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পুষ্টিহীনতার অভাব দেখা দেয়  শরিরে। পুষ্টির অভাব এবং রক্তস্বল্পতার কারণে গর্ভবতী অবস্থায় অনেক মাকেই বিভিন্ন ধরনের আয়রন ট্যাবলেট খেতে হয়।গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং আয়রন ক্যাপসুল খাওয়ার কারণে অনেক নারীরই কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দেখা দেয়। চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার  যা পরিপাকত্নত্রকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে একজন গর্ভবতী মাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

২. শরিরে শক্তি বৃদ্ধি করে

গর্ভকালীন সময়ে একজন গর্ভবতী মায়ের শরীর স্বাভাবিকের থেকে খুবই দুর্বল এবং ক্লান্ত দেখায় এবং বিভিন্ন পুষ্টিহীনতার অভাব দেখা দেয়। চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভালো চর্বি, প্রোটিন এবং পরিমিত কার্বোহাইড্রেট যা একজন গর্ভবতী মা খেলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি পায় শরীর দুর্বল অনুভব করে না শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে। গর্ব অবস্থায় শরীরের শক্তি বজায় রাখতে এবং শরীরকে সবল রাখতে নিয়ম মেনে চিয়াসিড খাওয়া উত্তম।

৩. শিশুর মস্তিষ্কের গঠনে (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড)

চিয়া সিডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গর্বে থাকা শিশু শারীরিক গঠন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, চোখের দৃষ্টিশক্তি এবং স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভে থাকা শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে জন্মানোর লক্ষ্যে একজন গর্ভবতী মাকে গর্ভকালীন সময়ে ওমেগা -৩ ফ্যাটি এসিডের অভাব পূরণ করার জন্য নিয়ম মেনে পরিমান মত চিয়াসিড খাওয়া দরকার বলে আমার মনে হয়।

৪. রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে

গর্ভকালীন সময়ে একজন গর্ভবতীর সবচেয়ে যে সমস্যাটা শরীরের বেশি দেখা যায় তা হল রক্তস্বল্পতা।গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্তের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতার অভাব দেখা দেয়।  রক্তস্বল্পতার অভাব পূরণ করার জন্য অনেকে গর্ব কালীন সময়ে শুরুতেই বিভিন্ন ধরনের ক্যালসিয়াম বা আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন।

কিন্তুচিয়া সিডে যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে তা অনেকেই জানেনা চিয়াসিডে থাকা প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা গর্ব কালীন সময়ের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং শরীরের সকল ক্লান্তি দূর  করতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।

৫. হাড়ের সুরক্ষায় চিয়াসিডের কার্যকারিতা

 চিয়াসিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর প্রয়োজন হয়। চিয়া সিডে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস মায়ের হাড়ের ক্ষয় রোধ করে ও শিশুর কঙ্কালতন্ত্র মজবুত করে শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক  রাখতে সহায়তা করে।

৬. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে

গর্ভকালীন সময়ে শরীরে ব্লাড সুগার বা শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।অনেকের আবার দেখা যায় গর্ব অবস্থায় অনেকের ডায়াবেটিস’ বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিয়া সিডে  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা গর্ব অবস্থায় রক্তে চিনি শোষণের গতিকে কমিয়ে দেয়,ফলে হঠাৎ করে রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

গর্ভকালীন সময়ে যদি  নতুন কোন খাবার আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে চান তাহলে  আগে আপনার গাইনোকোলজিস্ট বা একজন পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য ।

বাচ্চাদের খাওয়ার চিয়া সিডের নিয়ম সম্পর্কে জেনে  রাখুন

 অনেক বাচ্চারা দুধ খেতে পছন্দ করে না হলে তারা ক্যালসিয়াম জনিত সমস্যায় ভোগে দুধের বিকল্প হিসেবে আপনি আপনার বাচ্চাকে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়মিত অভ্যাস করতে পারেন এতে করে আপনার বাচ্চার ক্যালসিয়াম জনিত সমস্যা দূর হবে এবং শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকবে না। বাচ্চাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিয়া সিড  যুক্ত করা তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের পরিপাকতন্ত্র অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় এটি খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। তাহলে চলুন জেনে নেই কি কি নিয়ম ও সতর্কতা মানতে হবে।

নিচে বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ দেওয়া হলো:

১ কোন বয়স থেকে দেওয়া যাবে?

সাধারণত বাচ্চার বয়স ৮ থেকে ১০ মাসের বেশি হয় তখন বাচ্চাদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য শক্ত কিছু খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা হয় এবং সে যখন অন্যান্য শক্ত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন থেকে খুব সামান্য পরিমাণে চিয়া সিড দেওয়া শুরু করা যায়। তবে সবচেয়ে নিরাপদ সময় হলো বাচ্চার বয়স যখন এক বছর পার হবে তখন থেকে নিয়মিত চিয়াসিড খাওয়ানো যেতে পারে।

২. বয়স অনুযায়ী চিয়া সিডের পরিমাণ

বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের খাবারের থলে ছোট হওয়ায় খুব বেশি পরিমাণে চিয়া সিড দেওয়া উচিত নয়। চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা বাচ্চাদের ছোট পেটে গ্যাস বা হজমের সমস্যা করবে ফলে বাচ্চারা অস্বস্তিতে ভোগতে পারে।

১ - ৩ বছর: প্রতিদিন ১/২ (আধা) চা চামচ
৪ - ৮ বছর: প্রতিদিন ১ চা চামচ। 
৯ বছরের ওপরে: প্রতিদিন ১ থেকে ১.৫ (দেড়) চা চামচ

. খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম অনুসরণ করুন বাচ্চাদের কখনোই শুকনো চিয়া সিড বা পাউডার সরাসরি খেতে দিবেন না কারণ  শুকনো চিয়াসিড শিশুর গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরুদের মত সমস্যা তৈরি হতে পারে এতে করে শিশু মৃত্যুযোকিত ঝুঁকিতে পারে তাই খাওয়ানোর সময় সঠিক নিয়ম অনুসরণ করুন এবং নিয়ম মেনে খাওয়ান। চিয়া সিড খাওয়ানোর জন্য চিয়া সিড যাতে ভালো ভাবে ভিজে এজন্য কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে তারপর ভালোভাবে ভিজলে শুধু চিয়াসিড বা অন্য যেকোন খাবার যেমন পানি দুধ বা ফলের রসের সাথে মিশে খাওনো যেতে পারে। 

 বাচ্চা যদি শুধু ভেজানো চিয়া সিড খেতে না চায়, তাহলে পরিচিত কিছু খাবার এর সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন। যেমন:

ওটস বা সুজির পায়েসের সাথে।
ম্যাশ করা কলা, আপেল পিউরি বা টকদইয়ের সাথে স্মুদি বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে ,প্যানকেক বা পুডিং তৈরি করার সময় মিশ্রণে দিয়ে দিতে পারেন।

বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা মানা জরুরি

 চিয়া সিড শরীর থেকে পানি শোষণ করে পর্যাপ্ত পানি পরিমাণ কমিয়ে দেয় তাই বাচ্চাকে যদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করার জন্য বা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের জন্য শেষ খাওয়ান তাহলে বাচ্চা যাতে সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীর পানি শূন্যতায় ভোগে শিশু অসুস্থ যাতে তাই বাচ্চা যেন সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বাচ্চাদের খাবার তালিকায় প্রথম যখন চিয়াসিড খাওয়ানো শুরু করবেন দুই তিন দিন খাওয়ানোর পর বাচ্চার দিকে বাচ্চা শরীরের দিকে লক্ষ্য রাখবেন বাচ্চা শরীরে কোন এলার্জি র‍্যাস বা চুলকানি অথবা পেটের কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা যদি এরকম কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাৎক্ষণিক খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে ।

আপনার বাচ্চার বাচ্চার নিয়মিত খাবার তালিকা ডায়েটে এটি যোগ করার আগে তাদের নিয়মিত পেডিয়াট্রিশিয়ান (শিশু বিশেষজ্ঞ) বা পুষ্টিবিদের সাথে একবার পরামর্শ করে নেওয়া ভালো

 চিয়া সিড কোথায় পাওয়া যায় এবং দাম কত,কোথায় উৎপাদন করা হয় জেনে রাখুন

চিয়া সিড বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। এর পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতার জন্য একে "সুপারফুড" বলা হয়। আপনার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. কোথায় উৎপাদন করা হয়?

চিয়া সিড মূলত একটি বিদেশি ফসল। এর আদি জন্মস্থান মধ্য আমেরিকা,মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালা।প্রাচীন  সভ্যতার কিছু মানুষরা এটিকে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে খেত। কিন্তূ বর্তমান সভ্যতায় এটা অনেকে চিনে না শুধু কিছু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ তাদের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খেয়ে থাকেন‌

বর্তমানে মেক্সিকো ছাড়াও আরো বিভিন্ন দেশে চিয়া সিড উৎপাদন করা হয় যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া।  বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর চিয়া সিড উৎপাদন করা হয় এই দেশ গুলোতে ।আমাদের দেশে যে চিয়া সিড পাওয়া যায়, তার প্রায় পুরোটাই এসব দেশ থেকে আমদানি করা।তবে বর্তমানে বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলেও পরীক্ষামূলকভাবে চিয়া সিডের চাষ শুরু হয়েছে।

২.  চিয়া সিডের দাম কত?

বাংলাদেশে চিয়া সিডের দাম কেমন তা মূলত নির্ভর করে ব্রান্ট ,প্যাকেজিং এবং মানের ওপর। এগুলোর উপর ভিত্তি করে চিয়াসিড এর দাম কম বেশি হতে পারে তবে আপনি কোন ধরনের,কোন মানের চিয়াসিড কিনতে চাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে চিয়াসিডের এর দাম অর্থাৎ আপনি কি কোন ব্র্যান্ডের টা কিনবেন না প্যাকেজিং না গুণগত মানের চিয়াসিড কিনবেন। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী একটি সাধারণ ধারণা নিচে দেওয়া হলো

পরিমাণ দাম
১০০ গ্রাম ৫০-৭০ টাকা
২৫০ গ্রাম ১৫০-২০০ টাকা
৫০০ গ্রাম ৩০০-৪৫০ টাকা
১ কেজি ৫২০ -৬৫০ টাকার

৩. কোথায় পাওয়া যায়?

চিয়া সিড এখন খুব সহজে পাওয়া যায়। আপনি কোন কোন জায়গায় বা দোকানে গুণগত মান সম্পন্ন চিয়াসিড পেতে পারেন তা নিচে উল্লেখ করা হল

১  যেকোনো বড় সুপার শপ যেমন—স্বপ্ন, আগোরা, মিনা বাজার, বা ইউনিমার্ট-এর গ্রোসারি অথবা হেলথ ফুড সেকশনে এটি খুব সহজেই পাবেন।

২ অনলাইন শপ: ঘরে বসে কিনতে চাইলে দারাজ ,চালডাল ,রকমারি,খাস ফুড, অথবা বিভিন্ন বিশ্বস্ত অর্গানিক ফুড সাপ্লাইয়ারদের ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করে ঘরে বসে খুব সহজেই পেতে পারেন।

আরও পড়ুনঃদোকানের মত পারফেক্ট রসগোল্লা বানানোর কিছু গোপন রেসিপি

 ঢাকার কারওয়ান বাজার, চকবাজার বা আপনার এলাকার বড় কোনো ভেষজ (আয়ুর্বেদিক) ও মশলার দোকানে খোঁজ করলে এটি খুচরা বা পাইকারি মূল্যে কিনতে পাওয়া যাবে।

কেনার টিপস: চিয়া সিড কেনার সময় প্যাকেটটি ভালো করে দেখে নিন। আসল চিয়া সিড দেখতে কিছুটা ছোট, ডিম্বাকৃতির এবং এতে কালো, ধূসর ও সাদা রঙের মিশ্রণ থাকে। শুধু কুচকুচে কালো হলে সেটি আসল চিয়া সিড নাও হতে পারে (অনেক সময় তোকমা দানাকে চিয়া সিড বলে চালিয়ে দেওয়া হয়)।

চিয়া সিড না তোকমা দানা কোনটি বেশি উপকারী জেনে রাখুন

 চিয়া সিড এবং তোকমা দানা—দুটিই দেখতে অনেকটা কাছাকাছি ।চিয়া সিড পানিতে ভিজালে জেলির মত রূপ ধারণ করে আবার অন্যদিকে তোকমা দানা পানিতে ভিজালে ও জেলির মতো রূপ ধারণ করে  তবে পুষ্টিগুণ, কার্যকারিতা এবং দামের দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

তবে চিয়াসিড না তোকমা দানা কোনটি বেশি উপকারী তা জানার জন্য এবং সহজে বুঝার জন্য এদের সহজে বোঝার জন্য নিচে এদের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে তুলনা

চিয়া সিডকে "সুপারফুড" বলা হয়, কারণ এতে পুষ্টির উপাদানগুলো তোকমা দানার চেয়ে অনেক বেশি ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে।

 চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ থাকে, যা হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে। তোকমা দানায় ওমেগা-৩ এর পরিমাণ খুবই সামান্য।
 চিয়া সিডে উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তোকমায় প্রোটিন থাকলেও তা চিয়া সিডের চেয়ে কম।
 ফাইবার বা আঁশের দিক থেকে দুটিই চমৎকার। তবে তোকমা দানায় দ্রবণীয় ফাইবারের পরিমাণ একটু বেশি থাকে, যা পেট ঠাণ্ডা করতে দ্রুত কাজ করে।

 কোনটা বেশি উপকারী?

সামগ্রিক পুষ্টিগুণ, প্রোটিন, ওমেগা-৩ এবং খনিজের উপস্থিতির কথা বিবেচনা করলে চিয়া সিড তোকমা দানার চেয়ে অনেক বেশি উপকারী

চিয়া সিড সম্পর্কে মানুষের জিজ্ঞাসা

চিয়া সিড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল এবং জিজ্ঞাসার শেষ নেই। ইন্টারনেটে এবং দৈনন্দিন জীবনে মানুষ চিয়া সিড সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো করে থাকে, তার একটি তালিকা এবং উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. চিয়া সিড কি প্রতিদিন খাওয়া যায়?

২. চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

৩. চিয়া সিড কি ওজন কমাতে সত্যি সাহায্য করে?

৪. চিয়া সিড কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হয়?

৫. শুকনো বা না ভিজিয়ে চিয়া সিড খাওয়া কি নিরাপদ?

৬. চিয়া সিড খেলে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়?

৭. গরম পানিতে চিয়া সিড ভিজালে কি পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়?

৮. ডায়াবেটিস রোগীরা কি চিয়া সিড খেতে পারেন?

সকালে-খালি-পেটে চিয়া-সিড-খাওয়ার-৭-টি-অবিশ্বাস্য-উপকারিতা

লেখকের নিজস্ব মতামত

 আমার নিজস্ব মতামত অনুযায়ী চিয়া সিড আসলে কোন রোগ একবারে নিরাময় যোগ্য কোন ওষুধ নয় নিয়মিত চিয়া সিড খেলে কিছুটা রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে আমার মনে হয়।আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় চিয়া সিডকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটি খেলেই রাতারাতি সব রোগ সেরে যাবে বা ওজন কমে যাবে। লেখক হিসেবে আমার মতামত হলো—চিয়া সিড কোনো অলৌকিক বা জাদুকরী ওষুধ নয়। এটি মূলত পুষ্টির একটি চমৎকার পাওয়ারহাউস যা সুপার ফুট নামে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ সুন্দর ও স্বস্থ জিবন যাপনে গাজরের ভুমিকা সম্পকে বিস্তারিত

 আপনি যদি সারাদিন অস্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং ভাবেন সকালে এক গ্লাস চিয়া সিড খেয়ে সব সমস্যা দূর করে ফেলবেন, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি তখনই কাজ করবে যখন আপনার সামগ্রিক লাইফস্টাইল এবং ডায়েট ঠিক থাকবে। আমার এই আর্টিকেল পড়ে আপনি জানতে পারবেন চিয়া সিড এর সামগ্রিক গুণাবলী এবং খাওয়ার নিয়ম  সম্পর্কে।আপনার মতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিয়া সিড রাখা কতটা দরকার তা আমার কমেন্ট বক্সে জানাবেন,যদি আমার এই লেখাটি পড়ে আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অন্যকে শেয়ার করে দেখার সুযোগ করে দিলে অনুপ্রাণিত হব।ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url