২০২৬ সালের ঈদুল আযহার নামাজ ও কোরবানি করার নিয়ম
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার নামাজ ও কুরবানী করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে আজ আমার এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব ঈদুল আযহার নামাজ এবং কুরবানী করার নিয়ম সম্পর্কে।ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি।
প্রতিটা ঈদেই মুসলিমদের জন্য এক আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে তার মধ্যে ঈদ উল আযহা অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ এক আলাদা মহিমা নিয়ে আসে মুসলমানদের জন্য। ঈদুল আযহার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি ভোগের সুখ নাই ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।
পেজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ২০২৬ সালের ঈদুল আযহার নামাজ ও কুরবানী করার নিয়ম
- ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে ও চাঁদ কবে উঠবে জেনে নিন
- ঈদুল আযহা ২০২৬ সালের হজের সময়সূচী জেনে নিন
- ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদের ছুটি কতদিন জেনে নিন
- ঈদুল আযহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কবে থেকে জেনে নিন
- ঈদুল আযহার অর্থ গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানুন
- ঈদুল আযহার দিনে নামাজের ফজিলত ও নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে জানুন
- কুরবানীর নিয়ম ও মাসালা সম্পর্কে জানুন
- কুরবানী কার উপর ওয়াজিব এবং পরশু জবাই করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
- ঈদুল আযহার সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন
- কুরবানী করার সময় যেসব ভুল করা যাবে না এবং কোন কোন স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে জেনে নিও
- কুরবানীর সময় ও দোয়া সম্পর্কে জানুন
- অনলাইনে কোরবানির পশু কিনা কি নিরাপদ জেনে নিন
- নিজস্ব মতামত ঈদুল আযহা উপলক্ষে
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে ও চাঁদ কবে উঠবে জেনে নিন
ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি।কুরবানীর ঈদ মানে ঈদুল আযহা।ঈদুল আযহার শব্দের
অর্থ হল ত্যাগের উৎসব। আঞ্চলিক ভাষায় কুরবানির ঈদ বলা হয়ে থাকে।২০২৬ সালের
কোরবানির ঈদ কবে হবে এবং চাঁদ কবে উঠবে চলুন জেনে নিন।
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদুল আযহা সম্ভবত বাংলাদেশের ২৮ মে বৃহস্পতিবার
অথবা ২৯শে মে শুক্রবার হতে পারে।তবে চাঁদ দেখার উপর ঈদের তারিখ নির্ভর
করে,সৌদি আরবে যেদিন চাঁদ উঠবে তার একদিন পরে বাংলাদেশে ঈদ অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদুল আযহার চাঁদ কবে উঠবেঃ জিলহজ্ব মাসের আগমনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ঈদুল
আযহার আমেজ। অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১৮ তারিখ চাঁদ উঠে আর চাঁদ উঠার
১১ তম দিনে ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হয় অর্থাৎ ইংরেজি মে মাসের ২৮ থেকে ২৯ মে
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ হবে ইনশাআল্লাহ।
ঈদুল আযহা ২০২৬ সালের হজের সময়সূচী জেনে নিন
ঈদুল আযহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এর পাশাপাশি মুসলমানদের হজ্জ
পালনের মাস হল জিলহজ মাস। জিলহজ মাসে মুসলমানরা হজ পালন করে।২০২৬ সালের হজের
সময়সূচি হজ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
| হজ্জবিষয়ক তথ্য | তারিখ |
|---|---|
| আরাফার দিবস | ২৬ মে ২০২৬ |
| হজ্জ ফ্লাইট শুরুর | ১৭ ই এপ্রিল ২০২৬ |
| হজ্জপুর্ব ফ্লাইট শেষ | ২১মে,২০২৬ |
| ভিসা ইস্যু শুরু | ৮ই ফেব্রুয়ার্য,২০২৬ |
| হজ্জ প্যাকেজ | সর্বনিম্ম ৪ লাখ ৬৭ হাজার আর সর্বোচ্চ ৬লাখ ৯০ হাজার |
| বয়সসীমা | ১২ -তার উপর যেকোনো বয়সের লোক হজ্জে অংশ নিতে পারব |
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদের ছুটি কতদিন ও হিজরি তারিখ জেনে নিন
জিলহজ্জ মাস মানে ই ঈদুল আজহার মাস ,আরবি জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল
আযহা পালন করা হয়।তবে হিজরি বছর সৌর বছরের চেয়ে ১০ থেকে ১১ দিনের ছোট
তাই ঈদুল তাই ঈদ প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন প্রতিবছর এগিয়ে আসে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঈদের নাম | ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ |
| হিজরি তারিখ | ১০ জিলহজ্জ১৪৪৭ |
| সৌদি আরবে সম্ভাব্য ঈদ | ২৬মে ২০২৬ মঙ্গলবার |
| বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঈদ | ২৮ বা ২৯ মে ২০২৬ |
| আরাফাতের দিন (বাংলাদেশ) | ঈদের একদিন আগে |
| সরকারি ছুটি সম্ভাব্য | ২৮ মে-২ জুন২০২৬ |
| চাঁদ দেখার সম্ভাব্য তার | ১৬ মে ২০২৬ |
| ঘোষণাকারী সংসথা |
ইসলামী ফাউন্ডেশন
|
ঈদুল আযহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কবে থেকে জেনে নিন
ঈদের ছুটি যেন মানুষের কর্মজীবী মানুষের জীবনে স্বস্তি নিয়ে আসে।আর ঈদ হল সেই
ছুটি উপভোগ করার মাধ্যম আর ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার সাথে একত্রে ঈদ পালন করার
লক্ষ্যে যে যেখানেই থাকুক না কেন চলে আসে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ
করে নেওয়ার জন্য।
পরিবারের কাছে পৌঁছানোর জন্য কেউ বেঁচে নেই বাস আবার কেউ বেঁচে নেই ট্রেন তবে
বাসের টিকিট মোটামুটি পাওয়া যায় কিন্তু ট্রেনে ভ্রমণ করা বা যাতায়াত করা করতে
হলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখতে হয়।আর ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
ঈদের অনেকদিন আগে থেকেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে জনসাধারণের সুবিধার্থে তাহলে
চলুন জেনে নেই ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি কবে থেকে
শুরু হবে।
আজ ১৩ই মে থেকে শুরু হলো অগ্রিম টিকেট বিক্রি তবে যা সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে
পরিচালিত হবে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে নির্ধারিত রুটের টিকেট অনলাইনে
পাওয়া যাবে তবে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন ১৩ই মে থেকে বিক্রি
হবে ২৩ তারিখের টিকেট,১৪ মে পাওয়া যাবে ২৪ তারিখের টিকেট,১৫ তারিখে পাওয়া
যাবে ১৬ তারিখে পাওয়া যাবে ২৬ শে মে টিকেট,১৭ তারিখে পাওয়া যাবে ২৭ মে
টিকেট,আর ঈদের শেষে যার যার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ফিরতে টিকেট বিক্রি হবে ২১
শে মে।
এবার ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং ঈদের গরু কোরবানির জন্য গরু পরিবহনের জন্য কুরবানীর পশু
পরিবহনের জন্য ২২ ও ২৩ মে ঢাকা জামালপুর রোডে দুটি ক্যাস্টল স্পেশাল ট্রেন
চালানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ঈদুল আযহার অর্থ গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানুন
উপরে আমি আলোচনা করেছি ঈদুল আযহা কবে হবে,চাঁদ কবে উঠবে এবং ট্রেনের অগ্রিম
টিকিট কবে পাওয়া যাবে।এখন আমি আলোচনা করব ঈদুল আযহার অর্থ গুরুত্ব এবং
তাৎপর্য।
ঈদুল আযহার অর্থ হল ত্যাগের উৎসব।ঈদুল আযহা কে বাংলায় কোরবানির ঈদ এবং
ত্যাগর উৎসব কেন বলা হয় জানেন,যদি এর পিছনে কারণ আপনি জানেন তাহলে আপনার গা
শিউরে উঠবে।কোরবানির ঈদ অর্থাৎ ঈদুল আযহা একটি ত্যাগের উৎসব হিসেবে মানুষ অনেক গুরুত্ব
সহকারে এই দিনটি পালন করেন। মহান আল্লাহতালা ইব্রাহিম আলাই সালাম কে
স্বপ্নের মাধ্যমে তার প্রিয় পুত্র ইসমাইল আঃ কে কুরবানী দেওয়ার নির্দেশ
দেন।
এই দিনে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি ও সালাম আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের জন্য
তার নিজের সন্তানকে কুরবানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।আল্লাহ তার প্রতি
খুশি হয়ে তার সন্তানের পরিবর্তে সন্তানের জায়গায় পশু কোরবানির করার
হুকুম দেন এর পর শুরু হয় পশু কুরবানী। পশু কোরবানি যেমন গরু, ছাগল,ভেড়া,মহিষ
প্রতিটা মুসলমানদের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে পারে।
এ থেকেই আল্লাহর হুকুমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতি জিলহজ মাসের দশ তারিখে ঈদুল
আযহা মানে কোরবানির ঈদ পালন করে।তারা ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের পর প্রিয় পশু
কোরবানি করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করেন।
সুতরাং আল্লাহর সন্তোষটি লাভের জন্য কোরবানির ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। এই
দিনটিকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য আরাফার রোজা ও রাখেন। কোরবানির মাধ্যমে আমি বুঝতে
পারে বুঝতে শিখে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করাইয়ে
প্রকৃত ঈমানের পরিচয়।
ঈদুল আযহার দিনে নামাজের ফজিলত ও নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে জানুন
ঈদুল আযহার মধ্যেই মানুষ শিখতে পারে আত্মত্যাগ কিভাবে করতে হয় ধৈর্য মানবতা ও
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন সম্পর্কে। এই দিনে প্রতিদিন মুসলমান অনেক
ঘরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে তারপর ঈদগাহ মাঠে গিয়ে জামাতের সাথে দুই রাকাত
ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন ।
নামাজের নিয়ত( বাংলায়)ঃআমি কেবলামুখী হয়ে ইমামের পিছনে ঈদুল আযহার দুই
রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সাথে পালন করছি বলে মনে মনে এই
নিয়ত করলেই নিয়ত করা হয়ে যাবে।
নামাজ পরার নিয়ম প্রথম রাকাত ঃ
- ইমামের সাথে আল্লাহ হু আকবার বলে হাত বাঁধতে হবে( তাকবীরে তাহরীমা)
- সানা পড়ার পর অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর দিতে হবে
- প্রথম তাকবীরে প্রথম দুইবার তাকবীরে হাত ছেড়ে দিতে হবে
- তৃতীয় তাকবীরে হাত আবার বাঁধতে হবে
- এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতো রুকু এবং সেজদা দিয়ে দ্বিতীয় রাকাতে উঠতে হবে।
নামাজ পরার নিয়ম দ্বিতীয় রাকাত
- দ্বিতীয় রাকাত রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা পড়তে হবে
- অন্য সূরা পড়ে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর দিতে হবে.
- প্রতি তাকবীরে হাত ছেড়ে দিতে হবে
- চার নাম্বার তাকবীরে হাত না পেটে সরাসরি রুকুতে যেতে হবে এরপর বাকি নামাজ স্বাভাবিক নামাজের মত নিয়মে শেষকরে সালাম ফেরাতে হবে
কুরবানীর নিয়ম ও মাসালা সম্পর্কে জানুন
মুসলমানদের প্রতিটা ভাল কাজই হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। আল্লাহর
সন্তুষ্টি লাভের আশায় প্রতি জিলহজ মাসের দশ তারিখ নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট
সময়ে কোন পশু জবাই করাকে কুরবানী বলে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে
কুরবানী প্রতি ঈদুল আযহা তে দেওয়া হয় ওই কুরবানী প্রক্রিয়া যাতে সঠিক
নিয়ম মেনে এবং হাদিসের সঠিক নিয়ম জেনে কোরবানি দেওয়া হয় তার
দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ সঠিক নিয়ম ও মাসালা না জেনে কোরবানি দিলে
কুরবানী আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
হাদিসে উল্লেখ আছে কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগে আল্লাহর কাছে কবুল
হয়ে যায়, আমিন। তাই আন্তরিকতার সাথে কুরবানী করা আমাদের উচিত।আমরা অনেকেই
জানিনা কোরবানির নিয়ম এবং কোরবানির সম্পর্কে বিভিন্ন মাসালা।চলুন আমরা
জেনে নেই কোরবানির নিয়ম।কি কি সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী দিলে আমাদের
কোরবানি হবে এবং এর সঠিক মাসালা কি।
কুরবানীর নিয়ম ও মাসালা
- কুরবানির সাধারণত ঈদুল আযহার দিন ঈদের নামাজ পড়ে এসে দিতে হয়।
- মূলত ঈদের দিন তারপরের দুইদিন ১০-১১-১২ এই তিন দিনের মধ্যে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে।
- কুরবানীর জন্য বাছাই করা পশু অবশ্যই সুস্থ এবং সবল হতে হবে কারণ কোন ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত না অতএব পশু কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল লক্ষ রাখতে হবে যাতে পশুর কোন ত্রুটি না থাকে
- এবং তোমরা অনেকেই নানি নানা দাদার কাছে শুনেছ কুরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স না হলে ওই পশু দিয়ে কুরবানী দিলে কুরবানী হবে না অতএব পশু কেনার সময় পশুর বয়স এবং পশুটি কয় দাঁতের তা দেখে কে কিনতে হবে।
- আল্লাহর নামে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করতে হবে।
- কুরবানী করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম যাতে নতুন এবং দারালো হয় পশু যাতে কোন অবস্থাতেই বেশি কষ্ট না পায় সে থেকে খেয়াল রেখে কুরবানী করতে হবে।
কুরবানীর গোস্ত বন্টন ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
বর্তমান বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোরবানির গোশত খাওয়ার নিয়ম
দেখলে মনে হয় প্রতিটা মানুষ শুধু নিজেরই চিন্তা করে তারা মনে করে টাকা
দিয়ে কোরবানি দিয়েছে শুধু তারা নিজেদের জন্য। ইসলামিক হাদিসে আল্লাহতালা
কোরবানির গোস্ত নিজে খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানোর অন্যদের মাঝে তা বিলিয়ে
দেওয়ার যে নিয়ম দিয়েছেন তা অনেকে ই তা জেনে ও মানে না আসলে কি
তাদের কুরবানী আল্লাহ কবুল করবেন আমি জানিনা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাই সালাম তার পুত্র
হযরত ইসমাইল আঃ কে কুরবানী দিতে রাজি হয়েছিল আসলে এথেকে কি বুঝা
যায় না কুরবানী তো পরের জন্য ত্যাগের মহিমা।আল্লাহর সন্তুষ্টি
পাওয়ার জন্য যদি কেউ তার নিজের বুক ছেড়া ধনকে কুরবানী করতেও একবার
দ্বিধাবোধ করেনি আর আমরা আল্লাহর সেই বান্দা হিসেবে কুরবানী দিয়ে কুরআনের
গোস্ত নিজে অন্যকে না দিয়ে নিজের জন্য ফ্রিজ ভর্তি করি।আল্লাহ তায়ালা
কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া এবং অন্যকে দেওয়ার কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তাহলে
চলুন আমরা জানি আল্লাহর নির্দেশ গুলো।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন হালাল টাকায় তোমরা কোরবানি দিবা অর্থাৎ তোমাদের সারা
বছরের উপার্জন থেকে ব্যয় করার পরে যে অর্থ থাকে সে আয়ের অর্থ থেকে কুরবানী
দিলে তোমাদের কুরবানী সঠিক হবে এবং তার পাশাপাশি কুরবানীর গোশত সঠিক বন্টন সঠিক
নিয়মে করতে পারলে তোমাদের কুরবানী আমি কবুল করব।তোমরা কুরবানীর গোশত বন্টন
করার জন্য আমার দেওয়া এই নিয়ম অনুসরণ করবে কুরবানীর গোশতকে তিনটি ভাগে ভাগ
করবা-
এক ভাগ- নিজেদের জন্য
আর এক ভাগ -আত্মীয়-স্বজনের জন্য
পরের ভাগ-গরিব ও মিসকিনের জন্য
ঈদুল আযহার সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন
ঈদুল আযহার সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।মুসলমানদের দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল
ফিতর ও ঈদুল আযহা।ঈদুল আযহার মাধ্যমে মুসলমানরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার
তারা সকলে মিলে নামাজ পড়তে যায় এবং কোলাকুলি করে এতে একে অপরের সাথে সামাজিক
দূরত্ব কমে যায়।
পরস্পরের সাথে ভাতৃত্ব বোধ এবং সামাজিক গুরুত্ব কমে সমাজের শান্তি
শৃঙ্খলা বজায় থাকে।যেমন কোরবানির গোস্ত ভাগ করার তিনটি নিয়ম রয়েছে একভাগ নিজের জন্য আরেকভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য,আরেকটা গরিব মিসকিনদের জন্যএর ফলে
সমাজের ধনী-দরিদ্রের মানুষদের মাঝে ও সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সুবিধাবঞ্চিত
মানুষরাও উন্নত মানের খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়।
কোরবানির করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের মনের ভিতর যে পশুত্ব বা অহংকার আছে তা
বিসর্জন দেওয়া।হযরত ইব্রাহীম আঃ এর থেকে মানুষ যখন এই শিক্ষাটা পায় এবং তা
বাস্তবে প্রয়োগ করে তখন সে সমাজের জন্য মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে এবং নিজের
স্বার্থ ত্যাগ করে অন্য উপকার করতে ন উৎসাহিত হয় এবং একে
অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে।
ঈদুল আযহার সামাজিক গুরুত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কিন্তু
গুরুত্ব কম না বাংলাদেশের হাজার হাজার লাখ লাখ গরু কুরবানী হয় গরু কোরবানির
চামড়া বিক্রি করে বিদেশে বিক্রি করে দেশে অর্থনীতির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব
।এর মাধ্যমে ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে কুরবানীর মাংস বিতরণের মাধ্যমে
পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন আপনার সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়। অনেক দিন
কথা না হওয়া মানুষগুলোর সাথে মিল হয়ে যায় এভাবেই ঈদুল আযহা আজহার সামাজিক
গুরুত্ব অপরিসীম।
কুরবানী কার উপর ওয়াজিব এবং পশু জবাই করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
কোরবানি আসলে সবার উপর ওয়াজিব না তবে কোরবানি যে গরিবরা দিতে পারবে না
তা না তা কোথাও উল্লেখ নাই।আল্লাহতায়ালা বলেছেন যার সাড়ে সাত
তোলা স্বর্ণ এবং ৫২. ৫ তোলা রুপা এবং সমমূল্যের অর্থ আছে এবং যারা সারা
বছরে যা উপার্জন করে খরচ বাদ দিয়ে কোন দেনা না থেকে যদি তাদের ইনকামের আয়ের
অর্থ দিয়ে কুরবানী দিতে পারে তাহলে তাহলে ওই ব্যক্তির উপর কুরবানী
ওয়াজিব।
তবে কিছু কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে যেমন
- যে কুরবানী দিবে তাকে অবশ্যই মুসলিম জাতির হতে হবে।
- কুরবানী দাতাকে প্রাপ্তবয়স্ক থাকতে হবে।
- নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকতে হতে হবে।
- মুসাফির বা ভ্রমণকারীর উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
- দশ থেকে বারো জিলহজ্জ সময়ের মধ্যে কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে।
পশু জবাই করার সঠিক নিয়ম
জবাই করার সময় সঠিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। যাতে পশুর যাতে কষ্ট না পায়
সেদিকে খেয়াল করে পশু জবাই করতে হবে। পশু কোরবানির সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত করতে হবে
কুরবানী করার সময় যেসব ভুল করা যাবে না এবং কোন কোন স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে জেনে নিন
অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো পশুকে কুরবানী দেওয়া যাবে না
কুরবানী দেওয়ার আগে থেকেই ধারালো করে নিতে হবে যাতে কুরবানী করার
সময় পশু কষ্ট না পায়
কোরবানির জন্য বরাদ্দ পশুর যাতে কোন ত্রুটি যেমন খোরা,পায়ে
সমস্যা বা শরীরে কোন জায়গায় কোন ক্ষত আছে কিনা যদি থাকে এমন
পশুকে কুরবানী দেওয়া যাবে না।
কোরবানি করার পর যেসব স্বাস্থ্যবিধি বিধি মানতে হবে একটি নির্দিষ্ট
স্থানে তা রাখতে হবে করার পর গরুর তো রক্ত যাতে জায়গায় পড়ে না
থাকে এবং বল যাতে করে না থাকে পানি দিয়ে জায়গা পরিষ্কার করে
ফেলতে হবে যাতে কোন দুর্গন্ধ বের না হয় গরুর চামড়া যথাযথভাবে
সংরক্ষণ করতে হবে যাতে গরুরহয় গরুর চামড়া রাষ্ট্রীয়
সম্পদ
কুরবানীর সময় ও দোয়া সম্পর্কে জানুন
কুরবানী দেওয়ার সময় মূলত ঈদের দিন নামাজ পড়ার শেষ করার পরে
শুরু হয়। মুসলমানরা নামাজ আদায় করে বাড়ি এসে খাওয়া দাওয়া করে
তারপরে কুরবানীর পশু নিয়ে মাঠে উপস্থিত হয়। এবং এর পরের
দিন কুরবানী দেওয়া যাবে।
কোরবানির সময় এই দোয়াটি পাঠ করবেন বিসমিল্লাহি আল্লাহু
আকবার আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা।এর অর্থ হলো আল্লাহর
নামে,আল্লাহ মহান,হে আল্লাহ এই পশু তোমারই পক্ষ থেকে
প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসর্গ কৃত।
জবাইয়ের পর এই দোয়াটি করুন আল্লাহুম্মা মিন্নি কামা
তাকাবাল্লাহ হাবিবিকা মহাম্মাদুন মোহাম্মাদিও ওয়া খালি লিখা
ইব্রাহিম এর অর্থ হে আল্লাহ আপনি এই কুরবানী আমার পক্ষ থেকে কবুল
করুন যেভাবে কবুল করেছিলেন আপনার হাবিব এবং আপনার বন্ধু ইব্রাহিম
আলাই সালাম এর কুরবানী আমীন।
অনলাইনে কোরবানির পশু কিনা কি নিরাপদ জেনে নিন
আমরা তো আগেই জেনেছি যে ত্রুটি এবং রোগা কোন পশুর কোরবানির
জন্য উপযুক্ত না এই কথার বিবেচনা করলে কোরবানির পশু অনলাইন
না কিনাই নিরাপদ। সামনা সামনি দেখে বুঝে শুনে তারপরে কিনা
সবচেয়ে উত্তম।
নিজস্ব মতামতঃঈদুল আযহা উপলক্ষে
ঈদুল আযহা হল মুসলমানদের জন্য ত্যাগের ও মহিমার উতসব।শুধু পশু
কোরবানির কোরবানির উৎসব নয় এটা আমাদের এই উৎসব এই ঈদুল আযহা
মাধ্যমে আমরা সমস্ত মুসলিম জাতি নিজেদের মধ্যে যে অহংকার এবং ত্যাগ
না করার মানসিকতা থাকতে হবে তার সম্পর্কে বুঝতে পারে।
ইব্রাহিম আলাই সালাম তার পুত্র ইসমাইল আলাই সাল্লাম কে কুরবানী
দেওয়ার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা
আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় ভোগের সুখ নাই ত্যাগী প্রকৃত সুখ।অতএব
আমাদের অন্যের ভালোর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ত্যাগ করার
মানসিকতা আমাদের থাকতে হবে।
আমার মতে ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর এই দুটি ধর্মীয় উৎসব
মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ক সামাজিক দূরত্ব কমায়,সবার মধ্যে ভাতৃত্ব
বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং তাই ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা আমাদের জীবনে ধারণ
করা উচিত। এবং প্রতিটা মুসলমানের আল্লাহর
সন্তুষ্টি লাভের আশায় চলা উচিত।আপনার মতে ঈদুল
আযহা আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ উৎসব কতটুকু মানবিক
জীবনে দরকার ঈদুল আযহার করা দরকার জানালে আমি কৃতজ্ঞ থাকব
আমার এই লেখা ভালো লেগে থাকে তাহলে অন্যকে জানানোর সুযোগ করে
দিবেন। ধন্যবাদ।
|



মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url