আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৭
২০২৭ সালের আরবি ক্যালেন্ডার প্রতিটি মুসলিমদের জীবনে নতুন বছর ও নতুন ইবাদতের জন্য শুরু হক এই প্রত্যাশা করি।মুসলমান হিসেবে আমাদের বাংলা,ইংরেজি,ক্যালেন্ডার সম্পর্কে জানার পাশাপাশি আরবি ক্যালেন্ডার সম্পর্কে সচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।
পেইজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃআরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৭
- আরবি ক্যালেন্ডার ২০২৭ কাকে বলে
- আরবি ক্যালেন্ডার এর পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানুন
- আরবি ক্যলেন্ডার ২০২৭ এর ইসলামিক ছুটি দিন সমুহ
- আরবি ১২ মাসের নাম কি এবং নামের অর্থ সম্পর্কে জানুন
- আরবি ১২ মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত
- আরবি ক্যালেন্ডার কেন পরিবর্তিত হয়
- আরবি চারটি সম্মানিত মাস সম্পর্কে জানুন
- আরবি মাস মনে রাখার সহজ উপায় ও ক্যালেন্ডার এর ভূমিকা
- আরবি ক্যালেন্ডার কোথায় পাওয়া যায়
- ২০২৭ সালের কিছু ধর্মীয় উৎসব ও তাদের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে
- শিশুদের আরবি মাস সম্পর্কে ও আরবি ক্যালেন্ডার সম্পর্কে জানা উচিত কেন
- বর্তমান যুগে আরবি ক্যালেন্ডার ব্যবহার সম্পর্কে জানুন
- নিজস্ব মতামত
আরও পড়ুনঃফ্রিতে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় জেনে নিন
আরবি ক্যালেন্ডার ২০২৭ কাকে বলে
আরবি ক্যালেন্ডার চাদের আবর্তন দেখে গননা করা হয় অর্থাৎ যেই ক্যালেন্ডার হিজরতের বছর থেকে গননা শুরু করে তাকেই আরবি বা হিজড়ি ক্যলেন্ডার বলে।যে ক্যালেন্ডার চাদের আবর্তনের উপর হিসাব করা হয় তাকে আরবি ক্যলেন্ডার বলে। আরবি ক্যালেন্ডার এর অপর নাম হিজরি ক্যালেন্ডার। ২০২৬ সাল শেষ হয়ে এসেছে প্রায় আপনার যদি ২০২৭ সালের জন্য উত্তম পরিকল্পনা থাকে এবং ইবাদত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় করে থাকেন তাহলে পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা আপনাকে আগে থেকেই করে রাখতে হবে উচিত। উত্তম পরিকল্পনাই আপনাকে সফলতা এনে দিতে পারবে তাই পরবর্তী বছরের কথা ভেবে ২০২৭ এর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনাকে সাজান।
| নং | বার | ইংরেজি মাসের নাম ২০২৭ | আরবি মাসের নাম ২০২৭ | দিবস ২০২৭ |
|---|---|---|---|---|
| ১ | শনিবার | ১০ ই জানুয়ারি | ১০ ই মহরম | আশুরা |
| ২ | রবিবার | ৮ ই ফেব্রুয়ারি | সফর | |
| ৩ | সোমবার | ১০ ই মার্চ | ১২ ই রবিউল আউয়াল | ঈদে মিলাদুনব্বি |
| ৪ | মঙ্গলবার | ৪ ইএপ্রিল | রবিউল সানি | |
| ৫ | বুধবার | ৮ ই মে | জমাদি আউয়াল | |
| ৬ | ব্রহস্পতিবার | ৬ ই জুন | জমাদি সানি | |
| ৭ | শুক্রবার | ৬ ই জুলাই | ২৭ রজব | শবে মেরাজ |
| ৮ | শনিবার | ৪ আগস্ট | ১৫ শাবান | শবে বরাত |
| ৯ | রবিবার | ৩ সেপ্টেম্বর | ১ ও ২৭ রমজান | রমজান শুরুলায়লাতুল কদর |
| ১০ | সোমবার | ৩ অক্টোবর | ১ শাওয়াল | ঈদুল ফিতর |
| ১১ | মঙ্গলবার | ১ নভেম্বর | জিলকদ | |
| ১২ | বুধবার | ১ ডিসেম্বর | জিলহজ্জ ৮,৯,১০ | হজ্জ,আরাফাত দিবস,ঈদুল আযহা |
চাঁদের সাথে হিসাব করা হয় কেন জানেন চাঁদ একবার পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে যে সময় নেয় সেই হিসাবে এক মাস গননা করা হয়।ইংরেজি ক্যলেন্ডার যেমন সূর্যের উপর ভিতি করে চলে আর আরবি ক্যলেন্ডার তেমনি চাদের উপর ভিত্তি করে চলে।
আরবি ক্যালেন্ডার এর পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানুন
মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের আরবি ক্যালেন্ডার এর গুরুত্ব অপরিসীম।আরবি ক্যালেন্ডার কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত ছিল না।এটা ছিল আরবিয়দের ক্যালেন্ডার।আগে মানুষ বড় বড় হিসাব রাখতে পারত না এমনকি একটা মানুষ জন্ম কবে এবং কত বছর হইছে তা তারা গণনা করতো কোন কিছুর উপর ভর করে ও চিহ্নিত করে।
আগেকার দিনে মা দের জদি জিজ্ঞেস করা হতো যে বয়স কত তখন মা বলতো তোমার জন্ম হয়েছে যুদ্ধ হইছিল যখন। তোমার বয়স সঠিকভাবে হিসাব দিতে পারতো না। কোন কিছুকে চিহ্নিত করে তারা হিসাব রাখতো আর তার ধারাকে পাল্টানোর জন্য মূলত ক্যালেন্ডারের আবির্ভাব হয়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত কালে ঐতিহাসিক একটি ঘটনা ঘটে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত আরবি ক্যালেন্ডার এর সূচনা হয়।ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাসনামলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত হয়। এবং এরপর থেকেই খুব সহজেই আমরা বাংলা ও ইংরেজি মাসের পাশাপাশি। আরবি মাস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারি।
আরবি ক্যালেন্ডার ২০২৭ এর ইসলামিক ছুটির দিন সমূহ
| ইংরেজি মাস | উপলক্ষ | দিন |
|---|---|---|
| জানুয়ারী ৬, ২০২৭ | লাইলাতুল মিরাজ | বুধবার |
| জানুয়ারী ২৪, ২০২৭ | লাইলাতুল বরাত | রবিবার |
| ফেব্রুয়ারী ৭,২০২৭ | রমাদান ১৪৪৮ | রবিবার |
| মার্চ ৬,২০২৭ | লাইলাতুল কদর |
শনিবার |
| মার্চ ১০,২০২৭ | ঈদুল ফিতর ১৪৪৮ | শনিবার |
| মে ১৬ | ঈদুল আযহা ১৪৪৮ | রবিবার |
| জুন ৬ | ইসলামী নিউ ইয়ার ১৪৪৯ | রবিবার |
| জুন ১৫ | আশুরার দিন |
মঙ্গলবার |
| আগস্ট | নবীর জন্মদিন | রবিবার |
আরবি ১২ মাসের নাম কি এবং নামের অর্থ সম্পর্কে জানুন
বাংলা ও ইংরেজি মাসের মত আরবীতেও বারো মাসে এক বছর এবং আরবিতে আরবি মাসের নাম গুলো ও অনেক সুন্দর নিচে আরবি বারোমাসের নাম ও নামের অর্থ তুলে ধরা হল।
| ক্রমিক নং | আরবি মাসের নাম | নামের অর্থ |
|---|---|---|
| ১ | মহরম | নিষিদ্ধ |
| ২ | সফর | রিক্ত ও শুন্য |
| ৩ | রবিউল আওয়াল | প্রথম বসন্ত |
| ৪ | রবিউল সানি | দিতীয় বসন্ত |
| ৫ | জমাদি আওয়াল | প্রথম ভূমিখণ্ড |
| ৬ | জমাদি সানি | দ্বিতীয় শুকনো |
| ৭ | রজব | স্রদ্ধা ও সম্মান |
| ৮ | শাবান | বিখিপ্ত |
| ৯ | রমজান | দহণ |
| ১০ | শাওয়াল | উথিত |
| ১১ | জিলকদ | সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাস |
| ১২ | জিলহজ্জ | হজ্জের মাস |
আরও পড়ুনঃ গরম পানি খাওয়ার ক্ষতিকর দিক কি সম্পকে বিস্তারিত
উপরের তালিকা থেকে আপনি খুব সহজে জানতে পারবেন আরবি ১২ মাসের নামের অর্থ
এবং প্রতিটা মাসের নামের অর্থের সাথে মিল রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আরবি ১২ মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত
প্রতিটা নতুন বছর আমাদের জন্য আমাদের জন্য ফিরে আসুক নতুন ইবাদতের বছর হিসাবে।তেমনি ২০২৬ সালে আপনি যে ইবাদত করেছেন ২০২৭ সালে সেই ইবাদতের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিন।বেশি বেশি ইবাদত করেন এতে আল্লাহ খুশি হবে।২০২৭ সালের আরবি ১২ মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে সকলের জানা খুবই দরকার তাই আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি 20২৭ সালের আরবি প্রতিটা মাসের আমল ও ফজিলত সম্পর্কে লিখে তুলে ধরেছি।
মহরম
ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাস হল মহরম মাস।আল্লাহতালা এই মাসে সকল হারাম কাজ নিষিদ্ধ করেছেন।
মহরম মাসের ফজিলত
মহরম মাস কে আল্লাহতালা ইবাদত ও ফজিলত এর মাস হিসেবে সম্মানিত করেছেন।এই মাসে সকল যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল যাতে মানুষ শান্তিতে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। আল্লাহর রহমত আদায় করতে পারে।রমজান মাসে যেমন রোজা রাখা হয় তেমন মহরম মাসেও আশুরার রোজা রাখা হয়।
রমজান মাসের পর রোজা রাখার সবচেয়ে উত্তম মাস হল মহরম মাস।আশুরার দিন মানে মহরম মাসের ১০ তারিখ ।আশুরা ওই দিনে যদি রোজা রেখে কেউ যদি আগের বছরের ছোট বড় সকল গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ ওই বান্দাকে ওই আশুরার রোজার ওসিলায় উসিলায় ক্ষমা তার গুনাহ মাফ করে দেন।ল্লাহর রহমতের আশায় বেশি বেশি ইবাদত,রোজা ও তওবা করার মাস হল মহরম।
আমল
মহরম মাসের প্রথম তারিখের রাত্রে দুই রাকাত সালাত আদায় করে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ইখলাস এগারো পাট পাঠ করতে হবে ।এবং আরো ছয় রাকাত সালাত আদায় করে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ইখলাস ১০ বার পাঠ করতে হবে এতে জান্নাতে দুই হাজার মহল লাভ হবে এক হাজার দরজা এবং প্রত্যেক দরজায় সবুজ রংয়ের তক্তার উপর বসে থাকবে।
৬ হাজার বালা মসিবত দুর হবে এবং ৬০০০ নেকি আল্লাহতালা আমাদের আমলে লিখে দিবেন।মহরম মাসের প্রথম দিনে যদি দুরাকাত সালাত আদায় করে প্রতি রাকাতে সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করা হয় তাহলে দুজন ফেরেশতা বডিগার্ড হিসাবে তার বান্দাকে সর্বদা পাহারা দিবে এবং শয়তানের প্ররোচনাথেকে প্রতিটা বান্দাকে হেফাজত রাখবে।
সফর
সফর বলতে বুজায় দলে দলে কোথাও জাওয়া বা কোন কাজে অংশ নেওয়া।যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা মহরম মাসে কোন যোদ্ধ ও অশান্তি করতে নিষেধ করেছেন তাই সাহাবিরা সফর মাসকে বেচে নিয়াছে যুদ্ধ করার জন্য।আরবি মাসের ২য় মাস হলো সফর।
ফজিলতঃ সফর মাস সম্পর্কে অনেকের মনে কু ধারনা রয়েছে।অনেকে মনে করে আরবি সফর মাস অসুভ কারণ এই মাসেই যত যুদ্ধ বিগ্রহ হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহতালার দেওয়া কোন মাসই অশুভ বা খারাপ না। এই মাসকে অশুভ বা দুঃখের মাস মনে করা ভুল।বরং একে আস -সাফারুল মুজাফফার সফলতার মাস বলা হয়।
আরও পড়ুনঃশরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
আমলঃআরবি এই মাসে নির্দিষ্ট করে তেমন কোনো ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হয় নাই।তবে আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বেশি বেশি নফল ইবাদত,তাহাজ্জুদের নামাজ জিকির ইস্তেগফার এবং বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে জিকির করা এবং প্রার্থনা করা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যেতে পারে।
রবিউল আউয়াল
২০২৭ সালে আরবি ক্যালেন্ডার রবিউল আউয়াল মাসকে আল্লাহতালা বরকতময় মাস
হিসেবে ঘোষণা করেছেন।এই মাসটি সারা মুসলিম জাতির কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ
কারণ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওসালাম এর পবিত্র
জন্মদিনের সাথে এই মাসটি জড়িত।এই মাসে আমাদের হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাই সালাম জন্মগ্রহণ করেন।
ফজিলতঃ এই মাসে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া শ্রেষ্ঠ নিয়ামত আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএই পৃথিবীতে এসেছেন মানবতার মুক্তির দূত হিসাবে।এই মাসে হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত হিজরত করেছিলেন।আর মুমিনদের অন্তরে হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর প্রতি ভালোবাসার পুনর্জীবিত করার অন্যতম এই মাস।এই মাসেই জন্মদিন ও তার আগমনের দিন মনে করে প্রতিটা মুসলমান বিভিন্ন ইবাদত করে এবং মসজিদের মাইকে মাইকে মহানবি আঃ কে স্মরণ করে তার ইবাদত করা হয়।
আমলঃ আরবি এই মাসে তেমন কোন নামাজ বা সালাতের কথা উল্লেখ করা হয় নাই। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আগমন উপলক্ষে এই মাসে তার স্মরণে বেশি বেশি দুরদ ও নামাজ পাঠ করা এবং তার আদর্শ মেনে চলা এবং মনের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম সোমবারে জন্মগ্রহণ করায় এই মাসের সোমবারে রোজা রাখার রাখতে পারেন।
রবিউল সানি
আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ রবিউল সানি হল বর্ষপুঞ্জের চতুর্থ মাস।এই
মাসকে দ্বিতীয় বসন্ত বলা হয়। ঋতুর সাথে মিল রেখে এই মাস এর নামকরন
করা হয়।
ফজিলতঃ এই মাসে তেমন কোন সালাত বা ইবাদতের কথা নিদিষ্ট করে বলা হয়নি।তবে হিজরতের পর ফরজ নামাজ ২ রাকাত থেকে বাড়িয়ে ৪ রাকাত করা হয়।
আমলঃআল্লাহর দেওয়া প্রতিটা মাসের ই অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে।এই মাসে বিশেষ কোন সালাত বা নামাজ নাই।তবে এই মাসে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা রাখতে পারেন ।এছাড়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করতে পারেন,কোরআন তেলাওয়াত,জিকির এবং নফল ইবাদত করতে পারেন।
জমাদি আউয়াল
ফজিলতঃ জমাদি আউয়াল মাসে
ফজিলতঃ জমাদি আউয়াল মাসেপ্রচুর শীত পড়ে এবং পানি জমে যেত বলে এই মাসকে প্রথম শীতের মাস বলা হয়।এই মাসে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ মুতার যুদ্ধ হিজরীর এই মাসে সংঘটিত হয়েছিল।বিবি খাদিজা রাঃবিয়ে ও এই মাসে সম্পূর্ণ হয়।
আমলঃ আরবি এই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ১৩-১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা গুলো রাখার চেষ্টা করবেন । যত পারবেন বেশি বেশি নফল ইবাদত যেমন তাহাজ্জুতের নামাজ ,নফল নামাজ আদায় করবেন এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন ।আল্লাহর জিকির সব সময় সব জায়গায় মনে মনে করবেন এবং দূরুদ শরীফ পাঠ করবেন।এই মাসে যদি সামর্থ্য থাকে বেশি বেশি দান সদকা করার চেষ্টা করবেন কারণ গরিবরা খুশি হলে আল্লাহ খুশি হবে এবং আপনাকে আল্লাহর অশেষ রহমত থেকে রহমত দান করবে।
জমাদি সানি
আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহর দেওয়া প্রতিটা মাসে ইবাদতের মাস। জমাদি
আওয়াল মাসের মতই জমাদি ছানি এই মাসে তেমন কোন বিশেষ ইবাদতের কথা উল্লেখ
করা হয় না। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ফরজ নামাজ ,নফল নামাজ,
বেশি বেশি দান সদকা করতে পারেন।
ইসলামের কোন ইবাদতকে যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং সেই ইবাদতের জন্য সওয়াব ঘোষণা করা হয় তাহলে ওই ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহতালার পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ধারণা থাকবে। অনেকে বিভিন্ন মোবাইল বা ইন্টারনেটে এই মাসের বিশেষ কোনো নামাজ ও আমলের কথা প্রচার করে /
কিন্তু এটা ভিত্তিহীন যদি থাকতো তাহলে আমাদের পবিত্র কোরআনে সম্পর্কে ওই আমল সম্পর্কে উল্লেখ থাকতো। কোন বিশেষ নামাজ বা আমল আছে এটা বিশ্বাস করা করা ধর্মীয় বিদায়াত বা ধর্মীয় বহির্ভূতজের।
রজব
ফজিলতঃ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা যে চারটি মাসে মাসকে সম্মানিত করেছেন তার মধ্যে রজব মাস একটি রজব মাস। শরীয়তের এটিকে চারটি সম্মানিত মাসের একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন ।এই মাসগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করতে সূরা আত-তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে ব্যাখ্যা করেছেন ।এ মাসে অন্যায় ও জুলুম থেকে বেঁচে থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরী। রজব মাস কে বলা হয় রমজানের প্রস্তুতির মাস। রমজানের আগমনের বার্তা নিয়ে আসে রজব মাস।এই মাসটি বিশেষ দোয়ার মাস আমাদের রাসুল সাঃ এই মাসে বিশেষ দোয়া করতেন যাতে আল্লাহ তা'আলা রহমত রমজান পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার তৌফিক দান করেন।
আমলঃ ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় রজব মাসের তেমন কোন নির্দিষ্ট নামাজ বা রোজা বাধ্যতামূলক বা কোথাও নির্ধারণ করা হয় নাই।তবে নফল ইবাদত করা যেতে পারে।এই মাসটি যেহেতু রমজানের প্রস্তুতি ও দোয়ার মাস তাই এই মাসে বেশি বেশি একটি দোয়া করবেন আল্লাহুম্মা বারিক লানা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবাণ, ও বাল্লিগনা রমাদান এবং নফল রোজা ও বেশি বেশি দান সদকা করবেন।
শাবান
ফজিলতঃ শাবান মাস হলো রমজানুল মোবারকের প্রস্তুতি মাস আমাদের রাসুল সাঃ এই
মাসে প্রচুর পরিমাণ নফল রোজা রাখতেন যা অন্য কোন মাসে রাখতেন না এই মাসে
প্রতিটা বান্দার আমলনামা আল্লাহর নিকট পেশ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়
শাবান মাসের ১৫ তম রাত শবে বরাত এই রাতে আল্লাহতালা তার বান্দার প্রতি
বিশেষ রহমত প্রদান করেন বর্ষণ করেন এবং অধিক পরিমাণের গুনা ও মাগফিরাত
ক্ষমা করেন
আমলঃ বেশি বেশি নফল রোজা রাখার,কোরআন তেলাওয়াত করা,তওবা ও ইস্তেগফার বেশি বেশি করার কথা বলা হয়েছে। ১৪ সাবান দিবাগত রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত করা যেতে পারে। তবে ওই রাতে খেয়াল করতে হবে শবে বরাত কে উদ্দেশ্য করে আতশবাজি ,আলোকসজ্জা বা হালুয়া রুটি তৈরি করার কথা ইসলামের উল্লেখ করা হয় নাই ।অতএব এইসব বিদয়াতি নিয়মকানুন মানা থেকে দূরে থাকা জরুরী।
রমজান
ফজিলতঃ আরবি ক্যালেন্ডার এর হিজরির বারটি মাসের মধ্যে রমজান মাসকে সবচেয়ে বরকতময় ইবাদত পূর্ণ এবং পবিত্র মাস হিসেবে আল্লাহতালা ঘোষনা করেছেন।
এই মাসেই লাওহে মাহফু থেকে আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফ নাযিল হয়রোজার এই মাসে কদরের শেষ দশকের বিজোড় রাত যা লাইলাতুল কদর নামে পরিচিত। এই রাত কে ভাগ্য রজনীয় বলা হয় কারণ এই রাতে যদি ইবাদত করে আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ ওই বান্দাকে তাই দেয়।
হাজার রাতের চেয়ে উত্তম এই রাত। শবে কদরের এই রাতে আল্লাহতালা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেয় আর জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেয়।আল্লাহ তাআলা বলেছেন রোজা আমার জন্য তোমরা রাখো আর আমি তোমাদের উত্তম প্রতিদান দেব। আমিন
আরও পড়ুনঃপহেলা বৈশাখের আগমন ২০২৬
আমলঃ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখতে হবে।তারাবি নামাজ পড়তে হবে ,কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে বেশি বেশি।দান সদকা ও যাকাত আদায় যাকাত আদায় করতে হবে বেশি বেশি।
শাওয়াল
রমজান মাস রমজানের পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণের পর শাওয়াল মাস আসে
আনন্দের বার্তা নিয়ে শাওয়াল মাসকে হিজরী সনের দশম মাস বলা হয়
ফজিলত ও বিশেষ আমলঃ শাওয়াল মাস হল মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার ও আনন্দের মাস। এই মাসেই ঈদুল ফিতর হয় এবং ঈদের সালাত আদায় করা হয়/যাকাতুল ফিতর আদায় করা হয়। এই দিনের অন্যতম আমল শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা হয় ।
এই মাসটি বিয়ের জন্য উত্তম হযরত আয়েশা রাঃ এর বিয়ে এই মাসে হয়েছিল তাই
এই মাসটিকে সৌভাগ্যের মাস হিসেবে মনে করতেন। প্রতিটি মাসের মত এই
মাসেও বেশি বেশি তাকওয়া করা কোরআন তেওলা এবং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়
করার কথা বলা হয়েছে।
জিলকদ
ফজিলতঃআল্লাহতায়ালা আরবি হিজরির যে চারটি মাসের কথা মাস কে সম্মানিত করেছেন তার মধ্যে একটি ঝিলকদ।এই মাসকে হজ্জ বা উমরার মাস বলা হয়।জিলকদ মাসে কোন যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ থাকায় এই মাসকে শান্তির মাসও বলা হয়ে থাকে।
আমলঃ এ মাসের আমল হল বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে।যাদের সামর্থ্য আছে তারা হজ বা ওমরা নিয়ত করে হজ পালন করতে পারে এবং বেশি বেশি দান সদকা তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে এবং ফরজ আমলের উপর বিশেষ যত্ন করতে হবে যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে যত্ন সহকারে আদায় করতে হবে।
জিলহজ্জ
ফজিলতঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন জিলহজের প্রথম ১০ দিন হল ইতিহাসের সবচেয়ে বরকতময় দিন। এই দশ দিনের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয় কোন ইবাদত সময়ে নেই।জিলহজ মাসে হজ্ব বা উমরা পালন করা হয়।জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাত দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আরাফার দিনে রোজার রাখলে আল্লাহতালা বিগত এক বছরের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। জিলহজ মাসের দশ তারিখ ঈদ উল আযহা পালিত হয় এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কোরবানি করা হয় যা আমাদের হরযত ইব্রাহিম আলাই সালাম ও হযরত ইসমাইল আলাই সালাম এর মহান আত্মাদের কথা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আমলঃ তাকবীরে তাশরিক ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিল হজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর একবার আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার পড়তে হবে। রোজা রাখা মুস্তাহাব অধিক পরিমাণে জিকির করতে হবে যাদের উপর কোরবানির ফরজ তারা কোরবানি দিতে হবে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে।
আরবি ক্যালেন্ডার কেন পরিবর্তিত হয়
আরবি চারটি সম্মানিত মাস সম্পর্কে জানুন
| সম্মানিত মাসের নাম | কত তম মাস |
|---|---|
| জিলকদ | ১১ তম |
| জিলহজ্জ | ১২ তম |
| মহরম | ১ ম |
| রজব | ৭ |
- আরবি বারোটি মাস মনে রাখার সহজ উপায় হলো
- প্রতিটি বারোটি মাসকে চারটি ভাগে ভাগ করে মুখস্ত করলে সহজ মনে হবে।
- প্রতি চারটা মাসকে এক একটা ছোট্ট কবিতা বা ছড়ার মত করে মুখস্ত করতে পারেন।
- আবার মাসের অর্থের সাথে মিলিয়ে মাস মনে রাখতে পারেন।
-
প্রতিটা মাসকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে মনে রাখতে পারেন।
একটি ছোট কাগজের উপর লিখে তার টেবিলের সামনে রেখে প্রতিদিন চোখের
সামনে পড়লে তা এমনি এমনি মুখস্ত হয়ে যাবে।
আরবি ক্যালেন্ডার কোথায় পাওয়া যায়
২০২৭ সালের কিছু ধর্মীয় উৎসব ও তাদের সম্ভাব্য তারিখ সম্পকে
| ইংরেজি মাস | হিজড়ি তারিখ | উৎসব |
|---|---|---|
| ৫ জানুয়ারী ২০২৭ | ২৭ রজব ১৪৪৮ | শবে মিরাজ |
| ২৩ ই জানুয়ারী ২০২৭ | ১৫ শাবান ১৪৪৮ | শবে বরাত |
| ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৭ | ১ রমজান ১৪৪৮ | রমজানের শুরু |
| ১০ ই মার্চ ২০২৭ | ১ শাওয়াল ১৪৪৮ | ইদুল ফিতর |
| ১৬ মে ২০২৭ | ১০ জিলহজ্জ ১৪৪৮ | ইদুল আযহা |



মনে রেখো ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url